ব্রেকিং নিউজ:
৯৭% সংসদ সদস্যই দুর্নীতিতে জড়িত: টিআইবি
নিউজ ডেস্ক    অক্টোবর ১৪, ২০১২, রবিবার,     ০৯:৪৭:৪৯

 

বর্তমান সংসদের শতকরা ৯৭ ভাগ সদস্য নিয়োগ,বদলি,প্রকল্প বরাদ্দের অপব্যবহার ও দুর্নীতিসহ নানা নেতিবাচক কাজে জড়িত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। রোববার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নবম জাতীয় সংসদ সদস্যদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পর্যালোচনা শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
টিআইবি ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও ট্রাস্টি এম হাফিজ উদ্দিন খানের উপস্থিতিতে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিচার্স অ্যান্ড পলিসি) শাহজাদা এম আকরাম।
দেশের অর্ধেক সংসদীয় আসনের সদস্যদের ওপর ‘গবেষণা’ চালিয়ে টিআইবি দেখেছে, সংসদ সদস্যরা তাদের মূল দায়িত্ব- স্থানীয় এলাকার উন্নয়ন ও আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখার বদলে ‘সংসদ সদস্য’ পদকে একটি লাভজনক আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে নানা নেতিবাচক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন।
সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই যেসব ‘নেতিবাচক কার্যক্রমে’ জড়িত, তাদের মধ্যে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়া, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন বরাদ্দের অপব্যবহার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ পাওয়া অন্যতম।
টিআইবির এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেতিবাচক কাজে জড়িতদের ৭০ শতাংশ হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত। এদের মাঝে শতকরা ৫৩ ভাগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অপরাধে জড়িত হন আর ২৪ ভাগ সদস্যের বিরুদ্ধে আছে ফৌজদারি মামলা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নেতিবাচক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে নারী সদস্য ৭ জন এবং ২৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বিরোধী দলের ৫ সংসদ সদস্য রয়েছেন।
শাহজাদা এম আকরাম জানান,২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নবম সংসদের ১৮১ জন সদস্যের (৫১.৭%) বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রমের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি পর্যবেক্ষণের এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি দাবি জানিয়েছে, ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের’ কারণে সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংসদে ‘আচরণবিধি বিল’ পাস করার জন্য।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আচরণবিধি বিল আইনে পরিণত করতে হবে।”
এছাড়া টিআইবি চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল মন্তব্য করেন, সংসদকে কার্যকর করতে সংসদ বর্জনের রীতি বন্ধ করা উচিত।
প্রতিবেদন উপস্থাপক শাহজাদা আকরাম জানান, এ গবেষণার জন্য দেশের ৪২ জেলায় ৪৪টি এফ জি ডির (ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন -দলগত আলোচনা) আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক ব্যবসায়ী, আইনজীবী, অন্যান্য পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মীসহ ৬০০ আলোচক অংশ নেন।
প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য টিআইবি’র গবেষণা দলের সদস্যরা আলোচনা করেছেন ১৪৯ আসনের সংসদ সদস্যদের সাথে, যাদের মধ্যে আছেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২৭ জন, ক্ষমতাসীন দলের ১৩৬ জন এবং বিরোধী দলের ১৩ জন সদস্য। এসব আলোচনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য ও মতামত নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে টিআইবি কর্মকর্তা জানান।
তবে, ওই ১৪৯ জন সংসদ সদস্যদের ৫৩.৭ শতাংশ কৃষি ও স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণ, আইন -শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে অবদান রাখা এমন ধরনের কোনো না কোনো ‘ইতিবাচক কার্যক্রমে’ জড়িত বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় সংসদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই।
শাহজাদা এম আকরাম বলেন, “বড় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়া এবং নেতিবাচক কাজে জড়িত সাংসদদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ছেন না।”
অন্যদিকে প্রথম থেকে সপ্তম অধিবেশন পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের গড় উপস্থিতি ছিল ৬৭ ভাগ। সংসদ কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়,অধিবেশনের মোট সময়ের ২৩.৮ শতাংশ ব্যয় হয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আর আইন প্রণয়নে সময় লাগে ৯.২ শতাংশ।
এসময় টিআইবির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল দাবি করেন, সংসদকে কার্যকর করতে অচিরেই সংসদ বর্জনের রীতি বন্ধ করার উচিত।
প্রতিবেদনে সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া ৩০ দিন এবং এক টানা সাত দিনের বেশি অনুপস্থিতি নিষিদ্ধ করা, আইন সংশোধন করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা বন্ধ করা, আচরন বিধি বিল আইনে পাশ করাসহ দশটি সুপারিশ করা হয়।

আর. এস.এ./এম. এস./১৮.০৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ১১৮৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :