ব্রেকিং নিউজ:
শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম কৃষ্টির সঠিক অনুসরণ জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক    অক্টোবর ১৬, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৫:২৩:৫২

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বই হবে বিশ্বে শান্তি ও ন্যায়-ভিত্তিক সহাবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক, কারণ দেড়শ কোটি মুসলমানের বাদ দিয়ে বিশ্বে টেকসই শান্তি সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী স্নাতকদের আহবান জানান, সবার জন্য এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে মুসলিম কৃষ্টি ও সংস্কৃতির আলোকে একাগ্র চেষ্টা চালিয়ে যাবার।
আইইউটি’র ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র দেবার সময় শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে মুসলমানের গৌরবোজ্জ্বল কৃষ্টিকে সমুন্নত রাখা এবং জীবনাচরণে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার অনুপুংখ অনুসরণের উপর জোড় দেন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় সদ্য স্নাতকদের সাথে শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং সেন্ট্রাল প্লাজা ঘুরে সমাবর্তনের মূল মিলনায়তনে আসেন।
বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সফল স্নাতক ও তাদের অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান। স্নাতকদের নিজ দেশ ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার গুরু দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উপদেশ দেন,বাধা আসলে হাল না ছেড়ে প্রত্যয়দীপ্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবার জন্য এবং সাফল্যের জন্য একাগ্রতার সাথে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যেতে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব শান্তি এবং সম্প্রীতি অর্জনের জন্য আমাদের অন্যতম কর্তব্য হচ্ছে অন্যের প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি দেয়া এবং ন্যায়-বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমঝোতা ও স্বার্থ ত্যাগ করার মানসিকতা গড়ে তোলা।”
প্রযুক্তির গুণে দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীর নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা জন্য শেখ হাসিনা স্নাতকদের সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী থাকতে আহবান জানান। পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৬৫তম অধিবেশনে তাঁর উপস্থাপিত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ মডেল সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের যোগ্য সমর্থনও চান।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ওআইসি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত কে এ এস এম এহতেশামুল হক, মেকানিক্যাল ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আইইউটি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত শফি নূর, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আইইউটি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত জাহিদ ফাররাজ আহমেদ, সিভিল ও ইনভায়র্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আইইউটি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত মো. মোসাব্বির পাশা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনালে আইইউটি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত উগান্ডার তাবান হাবিবকে পদক পরিয়ে দেন।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মেকানিক্যাল ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ও ইনভায়র্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনালে ব্যচেলর, মাস্টার্স ও ডিপ্লোমাপ্রাপ্তদের নিয়ে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইউটির উপাচার্য ড. এম ইমতিয়াজ হোসেন। বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও আইইউটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেহমেত ভাকুর এরকুল বক্তব্য দেন। এছাড়া ওআইসি মহাসচিব ও আইইউটির আচার্য ড. একমেলেদ্দিন ইশানোগলুর বাণী পড়ে শোনান ওআইসির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মহাপরিচালক ড. রেজলি বিন মো. নরদিন।

এম. এস./১৬.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৪৫৫ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :