ব্রেকিং নিউজ:
১৫ বছরে আট কোচ; দীর্ঘ হয়না কারো যাত্রা
খেলাযোগ ডেস্ক    অক্টোবর ২৪, ২০১২, বুধবার,     ০১:১৮:১০

 

১৯৯৭ থেকে ২০১২, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিদেশি ক্রিকেট কোচদের আসা আর যাওয়া। পনেরো বছরে ওই হট সিটে বসেছেন ৮ জন বিদেশি। এর মধ্যে আবার ৮ বছর ছিলেন শুধু দুজন ডেভ হোয়াটমোর আর জেমি সিডন্স।
প্রজাপতির সাথে এক অদ্ভুত মিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচদের খুব অল্প দিন বাঁচে, খুব অল্প সময় বসে। আর টাইগারদের কোচ? ডানা মেলতে না মেলতেই মেয়াদ ফুরায়। এই গল্পের শুরু এক ক্যারিবিয়ানকে দিয়ে যাঁর হাত ধরে ৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপের দরজা খুলেছিলো টাইগাররা, হারিয়ে দিয়েছিলো পাকিস্তানকে।
কিন্তু ৯৯ এর ঐ ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের পরই ছুটির ঘন্টা বাজে গর্ডন গ্রিনিজের। শুরু হয় প্রোটিয়াস এডি বারলোর পাঠশালা অধ্যায়। তাঁর আমলেই শিশু থেকে বড়ো হয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পায় বাংলাদেশ। মাঠে নামে সাদা পোষাকে। কিন্তু বারলোর শরীর আর মানেনি। অসুস্থ অবস্থায় ছেড়ে যান বাংলাদেশ। প্রোটিয়াসের হাত ঘুরে দায়িত্ব গিয়ে পড়লো অজি ট্রেভর চ্যাপেলের হাতে।
কিন্তু বছর না ঘুরতেই আবারো পরিবর্তন, এবার টাইগারদের দেখাশোনার দায়িত্ব বর্তায় পাকিস্তানি মোহসিন কামালের উপর। কিন্তু মিউজিকাল চেয়ারে বেশিদিন টিকলেন না তিনিও। বিসিবি বেছে নিলো শ্রীলংকাকে বিশ্বকাপ জেতানো ডেভ হোয়াটমোরকে। শুরুতেই বাজিমাৎ! ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। ক্রিকেটে হ্যাট্রিক পেলো টাইগাররা, পাকিস্তানের সাথে পরপর তিন উইকেট পেলেন অলোক কাপালি।
এক বছরে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এক হাজারের বেশি রানের পাতায় ঢুকলেন, শাহরীয়ার নাফীস, ৪৯ ব্যাটসম্যান হটিয়ে ২০০৬ এর সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি হলেন, মাশরাফি বিন মতুর্জা।
স্রোতের মতো আসতে লাগলো দলের সাফল্য। হোয়াটমোরের চার বছরে ২৭ টেস্ট খেলে ২২ টি হেরেছে টাইগাররা, ড্র ৪ টা, জয় একটা। কিন্তু আবারো বদলের খপ্পরে টাইগার ক্রিকেট। দেশের ক্রিকেট আবারো এক অজির হাতে। জেইমি সিডন্স। তাঁর চার বছরের আমলে দেশের বাইরে গিয়ে প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতে সাকিব তামিমরা। নিয়মিতো জয় পেতে শুরু করে ওয়ানডেতে। এই আমলে ১৭ টেস্ট খেলে ১৪ টাতে হেরেছে সিডন্স-শিষ্যরা।
বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলংকায়, ২০১১র বিশ্বকাপের পর তাঁকেও বিদায় জানায় বিসিবি। আনা হয় আরেক অস্ট্রেলিয়ান স্টুয়ার্ট ল’কে। দারুণ অর্জন, পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে রানার্স-আপ হলেও, তাঁর নজরেই ইতিহাসের প্রথম এশিয়া কাপ ফাইনাল খেললো মুশফিকরা। কিন্তু মুদ্রার ওপিঠ-ওপিঠ। ওয়ানডেতে সাফ্যল্য, টেস্টে ব্যার্থতা। ৭ টেস্টের ৬ টাতেই হার। আর গল্পের শেষ নায়ক রিচার্ড পাইবাসের ছোট্ট সময়ে কোনো টেস্টই খেলেনি বাংলাদেশ।
এফ.আর/এস.এম.বি/১১.২০
বিভাগ: খেলাযোগ   দেখা হয়েছে ৬৭৫ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :