ব্রেকিং নিউজ:
মাওলানা আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৪ নভেম্বর
নিউজ ডেস্ক    নভেম্বর ০১, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ০৩:৫৮:৩৩

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ৪ নভেম্বর ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরুর নির্দেশ দেয় আদালত এবং তার পক্ষে মামলা লড়ার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী হিসেবে মো. আবদুস শুকুর খানকে নিয়োগ দেয়।একইসঙ্গে ১১ অক্টোবরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাওয়া সব সাক্ষ্যপ্রমান ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয় আদালত।
ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলে, আযাদ পলাতক থাকায় এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম চলবে।
এর আগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুইটি জাতীয় দৈনিকে আবুল কালাম আযাদকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে আরো বলা হয় উক্ত সময়ের মধ্যে উপস্থিত না হলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ শুরু হয়।
ট্রাইব্যুানালে প্রসিকিউশন গত ২ সেপ্টেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১০টি ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আযাদের অপরাধের মধ্যে জোর করে ধর্মান্তরিত করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা, লুট, ধর্ষণ, হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে জমা দেয়া তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাত্তরের এপ্রিলের শেষ দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারিতে একজনকে নিজ হাতে হত্যা করেন আবুল কালাম আজাদ। আর ১৩ মে মধুখালী গ্রামের ৩ জন নারীকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরে মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের ২২টি অভিযোগ এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে।
হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত ও দেশান্তর করাসহ বহু অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। বিশেষ করে একাত্তরের ২১ এপ্রিল ফরিদপুরের জগৎবন্ধু আশ্রমে ঢুকে প্রার্থনারত অবস্থায় ৮ সাধুকে হত্যা করেন আবুল কালাম আযাদ।
এছাড়া বাচ্চু রাজাকার সম্পর্কে প্রসিকিউটর জানায়, ফরিদপুর শহর, বোয়ালমারি, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাতেন তিনি। ফরিদপুর শহরের ১২০০ বধ্যভূমিতে যে হাজার হাজার মানুষ শায়িত আছেন, তাদের হত্যার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। মুক্তিকামী মানুষ, আওয়ামী নেতাকর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধরে এনে গুলি করতেন। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন বাচ্চু রাজাকার।
গত ২৫ মার্চ বাচ্চু রাজাকারকে গ্রেপ্তারের আবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। আর এ আবেদনের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৩ এপ্রিল তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন এ জামাত নেতা।

এম. এস./১৪.২৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৪৮৮ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :