ব্রেকিং নিউজ:
বিতর্কিত সাতই নভেম্বর আজ
মাহবুব স্মারক    নভেম্বর ০৭, ২০১২, বুধবার,     ১১:৩৭:৩০

 

আজ সাতই নভেম্বর। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল একটি দিন। আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এই দিনটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে আসছে। উন্নিশশো পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক আর পাকিস্তান ফেরত সৈনিকদের দ্বন্দের কারণেই সাতই নভেম্বরের মতো ঘটনা ঘটেছিল বলে মত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের। আর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মনে করেন, সাতই নভেম্বরের ঘটনার নায়ক কর্নেল তাহের আর খলনায়ক হচ্ছেন জিয়াউর রহমান।
৭৫ এর পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির হাতে। সব প্রতিদ্বন্দ্বিকে শেষ করতে খন্দকার মোস্তাক বন্দি করেন চার জাতীয় নেতাকে। মেজর জেনারেল শফিউল্লাহকে বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমানকে করা হয় নতুন সেনাপ্রধান। আর সেসময় ভারতে প্রশিক্ষণে থাকা এরশাদকে কর্ণেল পদ থেকে দুইটি পদন্নতি দিয়ে করা হয় মেজর জেনারেল।
ফারুক রশিদরা সামরিক বাহনীর উধ্বতন কর্মকর্তা না হলেও খন্দকার মোস্তাকের সাথে বঙ্গভবনে থেকে তারাই চালাতেন দেশ। সামরিক বাহিনীসহ সব খানেই চলত তাদের খবরদারি।
ফারুক রশিদের খবরদারির কারণে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। এ অবস্থার জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ আর কর্ণেল শাফায়াত জামিল দায়ি করতে থাকেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়া্উর রহমানকে।
এরপর তিন নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারেই হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। গুজবের নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা। সেই রাতেই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কর্ণেল শাফায়াত জামিলের সহায়তায় খালেদ মোশাররফ সেনা প্রধানের ক্ষমতা নেন। বন্দি হন জেনারেল জিয়া।
এরিমধ্যে ৬ নভেম্বর নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সায়েম। পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জেনারেল জিয়া। অন্যদিকে একই দিন রাতে হত্যা করা হয় খালেদ মোশারফকে।
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম দিনটিকে সৈনিক হত্যা দিবস মনে করলেও জাসদের সভাপতি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তা মনে করেন না।
নাসিম মনে করেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকরা শক্ত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জীবন হারিয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। ইনু মনে করেন তখনকার কুচক্রীরা গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে।
আওয়ামী লীগ নেতারা মোহাম্মদ নাসিম মনে করেন, বিএনপি জিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করলে ৭৫র পর সামরিক অভ্যুত্থানে এরশাদসহ অনেকের ভূমিকা পরিষ্কার হতো।
এম.এস/এস.এম.বি/১০.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬৫০ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :