ব্রেকিং নিউজ:
৭ই নভেম্বরের নায়ক তাহের, খলনায়ক জিয়া: ইনু
নিউজ ডেস্ক    নভেম্বর ০৭, ২০১২, বুধবার,     ১০:৪০:১৯

 

কর্নেল তাহের ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সৈনিকদের হত্যা করার মধ্য দিয়ে জে. জিয়া প্রমাণ করেছেন তিনি কখনোই গণতান্ত্রিক ছিলেন না— বললেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার রাজধানীতে সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাসদ আয়োজিত আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।
৭ই নভেম্বর। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল একটি দিন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এই দিনটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে আসছে।
১৯৭৫-এর ১৫ই আগষ্টের পর সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক আর পাকিস্তান ফেরত সৈনিকদের দ্বন্দের কারণেই ৭ই নভেম্বরের ঘটনা ঘটেছিল বলে মত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের। তিনি মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকরা শক্ত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জীবন হারিয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা।
মোহাম্মদ নাসিম দিনটিকে সৈনিক হত্যা দিবস মনে করলেও জাসদের সভাপতি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তা মনে করেন না। তার মতে তখনকার কুচক্রিদের তৈরি করা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষিতে ৭ই নভেম্বরের ঘটনার নায়ক কর্নেল তাহের আর খলনায়ক হচ্ছেন জিয়াউর রহমান।
জাসদ সভাপতি অভিযোগ করেন, জেনারেল জিয়াউর রহমান এ দিন গৃহবন্দি থেকে মুক্ত হয়ে পরে বিশ্বাসঘাতকতা করে কর্নেল তাহেরকে হত্যা করেন। হত্যা করেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সেনাকর্মকর্তাদেরও।
স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টা করছে—এ কথা উল্লেখ করে তাদেরকে রাজনীতির মাঠ থেকে দূর করতে গণতন্ত্রকামী সকল দলকে এক হওয়ার আহ্বান জানান জাসদ সভাপতি।
৭৫এর পনেরই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির হাতে। সব প্রতিদ্বন্দিকে শেষ করতে, খন্দকার মোস্তাক বন্দি করেন জাতীয় চার জাতীয় নেতাকে। মেজর জেনারেল শফিউল্লাহকে বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমানকে করা হয় নতুন সেনাপ্রধান। আর সেসময় ভারতে প্রশিক্ষণে থাকা এরশাদকে কর্ণেল পদ থেকে দুইটি পদন্নতি দিয়ে করা হয় মেজর জেনারেল।
ফারুক রশিদরা সামরিক বাহনীর উধ্বতন কর্মকর্তা না হলেও খন্দকার মোস্তাকের সাথে বঙ্গভবনে থেকে তারাই চালাতেন দেশ। সামরিক বাহিনীসহ সব খানেই চলত তাদের খবরদারি।
ফারুক রশিদের খবরদারির কারণে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। এ অবস্থার জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ আর কর্ণেল শাফায়াত জামিল দায়ী করতে থাকেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়া্উর রহমানকে।
এরপর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারেই হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। গুজবের নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা। সেই রাতেই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কর্ণেল শাফায়াত জামিলের সহায়তায় খালেদ মোশাররফ সেনা প্রধানের ক্ষমতা নেন। বন্দি হন জেনারেল জিয়া।
এরই মধ্যে, ৬ নভেম্বর নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সায়েম। পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জেনারেল জিয়া। অন্যদিকে একই দিন রাতে হত্যা করা হয় খালেদ মোশারফকে।
আওয়ামী লীগ নেতারা মোহাম্মদ নাসিম মনে করেন, বিএনপি জিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করলে, ৭৫’র পর সামরিক অভ্যুত্থানে এরশাদসহ অনেকের ভূমিকা পরিষ্কার হতো।
এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিকদের হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তিকে জিয়া রাজনীতিতে নতুন করে সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন দপ্তরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ৭ নভেম্বরের সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা ও জামাত-শিবিরের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য জিয়াউর রহমানই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এম. এস./এম. এস./২০.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭৭৬ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :