ব্রেকিং নিউজ:
বোলারদের নৈপুণ্যে লড়াই জমিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক    নভেম্বর ১৬, ২০১২, শুক্রবার,     ০৮:১৮:৫১

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে প্রথম ইনিংসে লিড নেবার পর চতুর্থ দিনের শেষ বিকালে বোলারদেরউজ্জীয়নী নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে অতিথিরা যখন ১ উইকেটে ২০৯ রানের শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল, তখনই শেষ বিকেলে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সাহারা কাপের প্রথম টেস্ট জমিয়ে তুলেছে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে চতুর্থ দিন শেষে ২৪৪ রান করেছে ক্যারিবীয়রা। এতে অতিথিরা এগিয়ে গেছে ২১৫ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শতক পেয়েছেন ওপেনার কিয়েরান পাওয়েল। তবে ক্যারিবীয়দের অস্বস্তির কারণ ছিলো অভিজ্ঞ শিবনারায়ণ চন্দরপলকে না পাওয়া। অসুস্থতার কারণে শুক্রবার ব্যাট করতে পারেননি তিনি।
এ ব্যাপারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গণমাধ্যম বিষয়ক ব্যবস্থাপক অ্যাড্রিয়েল রিচার্ডস জানিয়েছেন,অসুস্থতার জন্য খেলেন নি চন্দরপল। শনিবার সকালে বোঝা যাবে তিনি ব্যাটিং করতে পারবেন কি-না।”
এর আগে দিনের প্রথম সেশনে অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রান করে বাংলাদেশ।
শেষদিকে দারুণ ব্যাট করে দলকে লিড এনে দিলেও মাত্র ৪ রানের জন্য শতক বঞ্চিত হবার দুঃখ পুড়িয়েছে নাসিরকে।
আগের দিনের ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিকে সহজেই ১২১ পর্যন্ত নিয়ে যান মাহমুদুল্লাহ ও নাসির। দলীয় ৪৮৯ রানে অফ-স্পিনার সুনীল নারাইনের বলে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে পাওয়েলের হাতে ধরা পড়েসপ্তম উইকেট জুটি ।
চতুর্থ দিনে সুনীল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের (৬২ রান) উইকেট নিয়ে ১২১ রানের জুটি ভাঙ্গেন । এর ৪ বল পরই সোহাগ গাজীকেও (৪ রান) শিকার করে নারাইন যেন অনেকটাই ফিকে করে দিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের লিড নেবার স্বপ্ন।
তবে এরপর বোলার শাহাদাতকে নিয়ে নবম উইকেটে নাসির দ্রুত রান তোলায় লিডও পেয়ে যায় বাংলাদেশ ।
রামপলকে সীমানাছাড়া করে টেস্টের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পান নাসির। আর তাতেই প্রথমবারের মতো টাইগাররা উঠেছে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০ রানের মান উচ্চতায়।
এরপর রীতিমতো ওয়ানডে স্টাইলে খেলেন নাসির। পেরমল আর নারাইনের উপর ঝড় বইয়ে নিজের ইনিংসটাকে সেঞ্চুরির দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন নাসির। সেঞ্চুরির একেবারে কাছাকাছি এসে নাসির থেমেছেন ৯৬ রানে।
টিনো বেষ্টের বলে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন নাসির। তার ইনিংসে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার মার ছিল।
আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহাদাত ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিরে গেলে ৫৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৮৮ রান করে তারা। আর গ্রস আইলেটে ২০০৪ সালে করা ৪১৬ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে রামপল ও নারাইন ৩ টি করে উইকেট নেন।
৪ উইকেটে ৫২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস ঘোষণা করায় স্বাগতিকদের লিড ২৯ রানের । টেস্টে এনিয়ে নয়বার লিড পেল বাংলাদেশ।
ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো ব্যর্থ ক্রিস গেইল; দলীয় ২০ রানে রুবেল হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ড্যারেন ব্রাভোর (৭৬) সঙ্গে পাওয়েলের ১৮৯ রানের কার্যকর জুটি প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়।
প্রথম ইনিংসে শতরান করা ওপেনার পাওয়েল এ ইনিংসেও শতক হাকিয়ে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছেন -উভয় ইনিংয়ে জোড়া সেঞ্চুরি করা নবম ক্যারিবীয় হিসেবে।
৭৬ এর ব্রাভোকে রুবেল ফেরাতেই মিনি ধস ক্যারিবীয় ইনিংসে। ১৬ রানেই নেই ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে উইকেট না পাওয়া সাকিব শেষ বিকালের আলোতে ফিরিয়েছেন রামদিন আর পাওয়েলকে।
সাকিব আল হাসানের বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে ১১০ রান করেন তিনি। তার ১৯৭ বলের ইনিংসটি ১২ টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। এটি তার তৃতীয় শতক।
প্রথম ইনিংসে শতক করা দীনেশ রামদিন ব্যর্থ দ্বিতীয় ইনিংসে। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেয়ার আগে ৫ রান করেন তিনি। ১০ রানে বীরাসামি পারমলকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান সোহাগ। ১৫ রানে ব্যাট করছেন ড্যারেন স্যামি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫২৭/৪ডি. ও ২৪৪/৬ (গেইল ১৯, পাওয়েল ১১০, ব্রাভো ৭৬, স্যামুয়েলস ১, রামদিন ৫, স্যামি ১৫*, পারমল ১০; রুবেল ২/৩৫, সাকিব ২/৫৬ সোহাগ ২/৬৩)

বাংলাদেশ: ৫৫৬ (তামিম ৭২, জুনায়েদ ৭, নাফীস ৩১, নাঈম ১০৮, সাকিব ৮৯, মুশফিক ৪৩, নাসির ৯৬, মাহমুদুল্লাহ ৬২, সোহাগ ৪, শাহাদাত ১৩, রুবেল ০*; রামপল ৩/১১৮, সুনীল ৩/১৪৮, স্যামি ২/৮৩, পারমল ১/৭৫)

এম.এস./১৯.১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬৪১ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :