ব্রেকিং নিউজ:
কলকারখানায় নাশকতার ব্যাপারে সজাগ থাকুন : প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক    নভেম্বর ২৭, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৯:০০:৪৮

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে কলকারখানায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ করতে জনগণকে সজাগ থাকতে ও এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার তিন দিনব্যাপী বস্ত্র মেলা-টেক্সবাংলা-২০১২ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতের চেয়ে কলকারখানায় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। তারপরও টাকা দিয়ে পোশাক কারখানায় আগুন লাগানো হচ্ছে। কেউ যাতে ধ্বংসাত্মক কাজের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যাহত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
দুর্ঘটনায় জান-মালের বিপুল ক্ষতি কমাতে শেখ হাসিনা কলকারখানার মালিকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যে কোন দুর্ঘটনায় শ্রমিকরা যাতে তাদের কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প কারখানা স্থাপনের সময় পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করতে হবে, কেননা অনেক সময় পানির অভাবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ) দেশের তৈরী পোশাক খাতে স্থানীয় বস্ত্রের ব্যবহার আরো বাড়াতে হোটেল রূপসী বাংলায় পঞ্চমবারের মতো এই দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গত শনিবার তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডে এবং চট্রগ্রামে ওভারপাসের গার্ডার ভেঙ্গে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অগ্নিকান্ডকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তাজরিন গার্মেন্টসে দুর্ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আগুনে পোড়া মৃতদেহের ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মেধা, দক্ষতা ও সামর্থ কাজে লাগিয়ে দেশকে বস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “ আপনাদেরকে পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও নতুন বাজার সম্প্রসারিত করতে হবে।”
টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে তাঁর সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তৈরি পোশাকের বিদেশী বাজার সৃষ্টির প্রেক্ষিতে আমরা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ-কে পরষ্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার ব্যবস্থা করেছি। রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মূলধন যোগাড়ের ব্যবস্থা করেছি।”
গ্যাস সংকট কমানোর জন্য উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের সময় ৬,০৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সম্পদ দেশে রেখেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা কাজে লাগাতে চেষ্ঠা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশী বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার সাতটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
আশুলিয়া দুর্ঘটনায় শোক জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০১১-১২ অর্থ বছরেই এখাতে আয় হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটের কারণে এ শিল্পের বিকাশ স্থবির হয়ে আছে। রাজধানীর যানজট দূর করতে, সব তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ঢাকার বাইরে স্থানান্তরেরও দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ চৌধুরী ও বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আল আমিন।

এম. এস./১৯.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৫৫৩ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :