ব্রেকিং নিউজ:
মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ুন: খালেদাকে হাসিনা
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০১, ২০১২, শনিবার,     ০৫:৩৫:৫৭

 

জনগণের মনের কথা শুনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া এ জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে জয়ী করানোর জন্য সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ দেন। এরপর সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান?”
উপস্থিত নেতা-কর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। জামায়াত-শিবির ছাড়ুন। তাহলে যদি বাংলার মানুষের মনে একটু জায়গা হতে পারে।”
এসময় বিজয়ের মাসে ১৮ দলের আন্দোলন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই বিরোধী দলের নেত্রী এই কর্মসূচি দিয়েছেন।
কোন আন্দোলনই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে বাঁচাতে পারবে না এমন হুশিয়ারী উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “যতই চেষ্টা করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”
আগামী ৮ ডিসেম্বর সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেয়ায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় কর্মসূচি দিয়েছেন। তারা সেই মাসে কর্মসূচি দিয়েছে, যে মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আমরা আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম।”
জনসভায় সিলেটের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরে চারদলীয় জোট সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা না করায় তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের জনগণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আছে।”
আগামী নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় গেলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।
এর আগে সকাল পৌনে ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন এবং উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কলেজ ও শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখানে এক সুধী সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
এরপর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নবনির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আবহাওয়া অফিস উদ্বোধন করেন। এছাড়াও সেখানে তিনি চিফ জুডিসিয়াল ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, জাতীয় মহিলা সংস্থা ভবন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এম.এস./১৮.৪০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৫৯০ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :