ব্রেকিং নিউজ:
মুক্তিবাহিনীর আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানিরা
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০৩, ২০১২, সোমবার,     ০১:০৭:২৪

 

আজ ৩রা ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী। ভারতীয় সৈন্যরা এদিন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনা ভিন্ন খাতে পরিচালিত করতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এই দিনে।
তিন ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে বেসামাল হয়ে পড়ে পাকিস্তানিরা। মুক্তিবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে এদিন গঠিত হয় ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এই বাহিনী প্রবেশ করে বাংলাদেশ সীমানায়।
ভারত, সেনা, বিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে খুলে দ্বিতীয় ফ্রন্ট। এদিন বিকেল পাঁচটায় রেডিও পাকিস্তানে ভারত পশ্চিম পাকিস্তানে আক্রমণ শুরু করেছে বলে খবর প্রচারিত হয়।
পাঁচটা ৯ মিনিটে পেশোয়ার বিমানবন্দর থেকে ১২টি, সারগোদা থেকে আটটি বিমান উড়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে হামলা করতে। আরও দ'টো পাঠানো হয় আগ্রায়। পাকিস্তান ১১টি ভারতীয় এয়ারবাসে হামলা চালায়। ৩২টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এই আক্রমণে। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কোলকাতায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরী ভিত্তিতে দিল্লীতে ফিরে মন্ত্রিসভার জরুরী বৈঠক করেন। মধ্যরাতে বেতার বক্তৃতায় তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, 'এতদিন ধরে বাংলাদেশে যে যুদ্ধ চলে আসছিল তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।'
১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদারমুক্ত হয়েছিল বরগুনাসহ আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চল। এর আগে ১০ অক্টোবর পাথরঘাটায় ঢোকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে না পেয়ে সিংড়াবুনিয়া গ্রামের সাত জনকে গুলি করে হত্যা করে হানাদাররা। তাদের অত্যাচার থেকে সেদিন রেহাই পায়নি শিশুরাও। পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। এরপর ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় নির্যাতনের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করে স্বাধীনতাকামী আরও ৭৬ জন বাঙালিকে। ২রা ডিসেম্বর ২১ জনের একটি দল নিয়ে বরগুনা ঢোকে মুক্তিযোদ্ধারা। ৩রা ডিসেম্বর ভোরে দু'দফা লড়াইয়ের পর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রাজাকাররা।
এছাড়াও ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার মুক্ত হয়েছিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এদিন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। অনেক দুঃখ বেদনার পরও সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দের জোয়ার। সে দিন কোটালীপাড়ার মানুষ মুক্তির স্বাদ পেয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে পড়ে।
এস.এইচ/এস.এম.বি/০১.০০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৫৯৩ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :