ব্রেকিং নিউজ:
‘পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক’
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০৪, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৪:২৩:৩৮

 

জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আর মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৫ বছর পূতি উপলক্ষে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাজেদা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বৃত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের প্রতি আস্থা রেখে যারা অস্ত্র সমর্পন ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, আমরা তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করতে পারি না।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এবং সুপারিশনামা পেশ করেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং।
সাজেদা চৌধুরী বলেন, ৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৭৬ সাল থেকে পার্বত্য এলাকায় সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ওই সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টির সকল প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের সময়ে পার্বত্য এলাকার সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত রেখে ৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তৎকালীন সরকার সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
সাজেদা চৌধুরী বলেন, চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি সংখ্যালঘু জাতির জন্য ঐতিহাসিক স্বশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাই ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র বড় সাফল্য।
তিনি বলেন, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্য এলাকার জন্য একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ চুক্তি বাস্তবায়নে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণীত হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন গঠন, পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনাবাহিনীর ২শ’ অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার, জনসংহতি সমিতির প্রায় ৭শ’ সদস্যকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, অন্যদের পূর্বতন চাকুরিতে পূনর্বহাল, ভারত থেকে শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনাসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদ উপনেতা বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি পূনর্গঠন করেছে। তিনি বলেন, ‘এই কমিটির আহবায়ক হিসেবে আমি কয়েকবার পার্বত্য এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলেছি। চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ এর কতিপয় ধারা সংশোধন করতে ইতোমধ্যে ৪টি সভা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুক্তিটির তদারকি ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন পূনর্গঠন করা হচ্ছে।
সংসদ উপনেতা বলেন, পাহাড়ী জনগণের সমস্যাবলী মৌলিকভাবে সমাধানের জন্য জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন সেই কারণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি মূল জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অপরিহার্য।

এম. এস /২১.২৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭০০ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :