ব্রেকিং নিউজ:
'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না বলেই হরতালে বিএনপি’র সমর্থন'
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০৪, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৪:৩৪:৩২

 

জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালে বিএনপি নৈতিক সমর্থন দেয়ায় খালেদা জিয়ার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের এক সভায় তিনি বলেন, "জামায়াতের আজকের হরতালে নৈতিক সমর্থন দেয়ার অর্থ হচ্ছে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করেছিল, সে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিঘ্নিত করতে চায়।"
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে বসে ১৪ দল। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেও যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তাই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করবে বিএনপি-এটাই স্বাভাবিক।
তবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "আমার দৃঢ় বিশ্বাস যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পারবো। জামায়াত শিবির হরতাল দিয়ে, মানুষ খুন করে ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তা বন্ধ করতে পারবে না।"
বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।
তিনি সম্মিলিত শক্তিতে জামায়াত-শিবিরকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন সাধারণ মানুষকে, যাতে তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার নামে কোন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন গণদাবি; বিশেষ করে তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে চায়।
তিনি বলেন, “দেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে । সব সন্দেহ আর প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করতে পারছি স্বচ্ছতা ও গ্রহনযোগ্যতা নিয়েই। এই উদার ট্রাইব্যুনালে আপিলেরও সুযোগ রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশে নেই।”
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ জারি করার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান সামরিক আইন অধ্যাদেশ জারি করার মাধ্যমে কেবল সে বিচারই থামিয়ে দেননি, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছিলেন রাজনৈতিকভাবেও ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জিয়াই শাহ আজিজের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।"
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়ার জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।"
১৪ দলের নেতারাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আবারো তাদের সমর্থন জানান। তারা বলেন, জামাত শিবির মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত দেশে-বিদেশে যে প্রচারণা চালাচ্ছে সে বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ১৪ দলের নেতারা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীসহ এই সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বেগম মতিয়া চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরুল্লাহ ও মাহবুব উল আলম হানিফ এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশাহ এমপি প্রমুখ।

এম. এস /২০.২৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৫৯৩ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :