ব্রেকিং নিউজ:
সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা যে কোনো দিন
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০৬, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ১২:২৭:০৬

 

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে, এখন এই রায় ঘোষণা করা হবে আগামী যে কোনো দিন।
বৃহস্পতিবার মামলার আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একথা জানায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কারো বিরুদ্ধে প্রথম রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি ঘটনায় জড়িত খাকার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। গত বছর ৭ ডিসেম্বর শুরু হয় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। ঠিক এক বছরের মাথায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী যে কোন দিন রায় দেয়া হবে বলে জানালো ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা এক মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদীকে। পরে সে বছরেরই ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সমাপনী দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষের শেষ পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।
বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষী সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। আর সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেন ১৭ জন। সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলছেন রাষ্ট্রপক্ষ সাঈদীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী দাবি করেন,তারা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান করতে পেরেছেন।
পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে যে কোনো দিন সাঈদীর মামলার রায় দেয়া হবে বলে আদেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের ১ নম্বর মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিচারাধীন ১১ জনের মধ্যে এই প্রথম দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আসতে যাচ্ছে।
গত বছরের ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগ ৮৮ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য এবং ৭৭ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা করা, ৯ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১০০ থেকে ১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের ২০ ও ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান।
এ মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। প্রায় সাড়ে ৪ মাসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ২০ জন ঘটনার বিষয়ে এবং সাতজন জব্দ তালিকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের ২৮তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন ৮ এপ্রিল। নয় কার্যদিবসে ২৪ এপ্রিল তার সাক্ষ্য শেষ হয়। আসামিপক্ষ ২৫ এপ্রিল তাকে জেরা শুরু করেন। ৪৮ কার্যদিবসে ১৩ আগস্ট তার জেরা শেষ হয়। এর মাধ্যমে শেষ হয় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা।
এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
২ সেপ্টেম্বর থেকে সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসামিপক্ষ ৪৮ জনের নামের তালিকা দিলেও ২০ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অনুমোদন দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০ জনের মধ্যে আসামিপক্ষ ১৭ জন হাজির করে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ান।
গত ২৩ অক্টোবর আসামিপক্ষ আর কোনো সাফাই সাক্ষী আনতে না পারায় সেদিনই সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
সাঈদী ছাড়াও জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান আমিরসহ সাত শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

এম. এস./২০.১৫
বিভাগ: সংবাদ সংযোগ   দেখা হয়েছে ৬০৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :