ব্রেকিং নিউজ:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রধানের পদত্যাগ
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ১১, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৫:২৩:৪৩

 

‘ স্কাইপে বিতর্ক’র মুখে পদত্যাগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো.নিজামুল হক নাসিম। মঙ্গলবার বিকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক তাঁর পদত্যাগপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমদ সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান পদ অব্যাহতি চেয়ে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
পদত্যাগী বিচারকের পরিবারিক সূত্র জানায়, স্কাইপে এক আইন গবেষকের সঙ্গে কথিত কথপোকথন নিয়ে জমাট বাঁধা বিতর্কের অবসানে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি লন্ডনের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘দি ইকোনমিস্ট’ ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় বিচারপতি নিজামুল হক ও ব্রাসেলসভিত্তিক আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যেকার কথপোকথন প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে স্কাইপে এক প্রবাসীর সাথে বিচারপতি নিজামুল হকের এই আলাপচারিতার খবরটি ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশের পর বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় ওঠে- একজন বিচারক তার বিচারিক বিষয় নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে।
এরপর সোমবার তার পদত্যাগের দাবিতে আদালত পাড়ায় তুলকালাম সোরগোল তোলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা।
ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারকের গোপনীয়তা ভঙ্গ করার অপরাধে রুল জারি করেছে ইকোনমিস্টের সম্পাদক ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো সম্পাদকের প্রতি। মঙ্গলবার কথা ছিল এই আলাপচারিতার খবর প্রচার করায় দৈনিক আমার দেশ সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়ার। তবে এদিন ট্রাইব্যুনালে না এসে পদত্যাগ করেন বিচারপতি নিজামুল হক।
এদিকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, এতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। দু'একদিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে।
একটি দৈনিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সাথে একজন প্রবাসীর কথোপকথন প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ এই পত্রিকাটি শুরু থেকেই ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষায়িত আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি মো. নিজামুল হক ২০১০ সালের ২৫ মার্চ থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
সেসময় তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ কে এম জহির আহমেদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্টের ৬ ধারার ক্ষমতাবলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অনুমোদনক্রমে গেজেটভুক্ত করা হয়।
২০১০ সালের ২৬ জুলাই ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে প্রথম শুনানির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালের তার কার্যক্রম শুরু করে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা— মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং নিজামুল হক ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরকে প্রধান করে ২৫ মার্চ থেকে এর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম ট্রাইব্যুনালের প্রধানের দায়িত্বে থাকেন যথারীতি বিচারপতি নিজামুল হক। এই ট্রাইব্যুনালেরই আরেক সদস্য বিচারপতি এ কে এম জহির আহমেদ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত অগাস্ট মাসে পদত্যাগ করেছিলেন।
এরপর বিচারপতি জহিরের স্থলে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেয় সরকার। ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারক হলেন আনোয়ারুল হক।
পদত্যাগের আগ পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক নিজামুল হক আলোচিত অনেক যুদ্ধাপরাধ বিচারিক প্রক্রিয়া ।
বিচারপতি নিজামুল হক ১৯৭৭ সালে হাই কোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত নিজামুল হক ২০০৯ সালে বিচারক হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ পান। এর আগে ১৯৯৯ সালে তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
এদিকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, বিচারপতি নিজামুল হক ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এজন্য ভবিষ্যতে তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এম. এস./১৯.৩০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭৯০ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :