ব্রেকিং নিউজ:
ফখরুল কারাগারে, রিমান্ড পায়নি পুলিশ
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ১১, ২০১২, মঙ্গলবার,     ১১:৩৮:৫৮

 

অবরোধে সহিংসতার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় মির্জা ফখরুলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে এই বছর দ্বিতীয়বার কারাগারে যেতে হল ফখরুলকে।
পাশাপাশি নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে করা পুলিশের আবেদনও নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
তুমুল উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় সহযোগিতার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় এই আদেশ দেয় মহানগর হাকিমের আদালত।
সোমবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতারের একদিন পর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে বিকেল চারটার দিকে মির্জা ফখরুলকে আনা হয় ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে।
আদালত প্রাঙ্গনে শত শত বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যেই রোববারের অবরোধের সময় পল্টন ও শেরেবাংলানগর থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ফখরুলকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।
দুটি মামলায় তাকে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে প্রথমে পল্টন থানার গাড়ি পোড়ানোর মামলায় অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসেনের আদালতে নেয়া হয়। এ মামলায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আবু আল খায়ের মাতুব্বর সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের তুমুল হট্টগোলের মধ্যে বিকাল সোয়া চারটায় শুনানি শুরু হয়ে একটানা বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে।
রিমান্ড আবেদনের শুনানির শুরুতেই আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের দাবির মুখে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জন্য নির্ধারিত ডকেই চেয়ারে ফখরুলকে বসতে বলেন।এ নিয়ে দু’ পক্ষের আইনজীবীরা অনেকক্ষণ চিৎকার –চেচাঁমেচি করেন ।
রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু শুনানিতে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সরাসরি নির্দেশে অবরোধ চলাকালে সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষতি করা হয়েছে। অবরোধের দিন সকাল ৭টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দুইশ’ নেতাকর্মী সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ওই গাড়ির ড্রাইভার এ মামলার বাদী আয়নাল ও হেলপারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। এ মামলায় ফখরুল এক নম্বর এজাহার নামীয় আসামি।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজ-খবর নিতে মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।”
অবরোধের দিন গাড়ি বের না করতে তার আহ্বান মনে করিয়ে দিয়ে সরকারি এই কৌঁসুলি বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে সারাদেশে গাড়ি ভাংচুর করেছে, যা নজিরবিহীন। বিএনপি গাড়ি পুড়িয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
রিমান্ড আবেদন বাতিল করে বিএনপি নেতার পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মাহবুবউদ্দিন খোকন প্রমুখ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার অভিযোগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার এই মামলাগুলো দিয়েছে।
ব্যরিস্টার রফিক বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য। অবরোধের দিন মির্জা ফখরুল শেরেবাংলা নগর এলাকায় সাড়ে ৫টার সময় গাড়ি পোড়াতে গেলেন, আর সাংবাদিকরা সে খবর গণমাধ্যমে আনলেন না, এটা অবিশ্বাস্য।”
রিমান্ড আবেদনের উত্তপ্ত শুনানিতে ব্যরিস্টার রফিক আরো বলেন,“ মির্জা ফখরুল ইসলামের মতো একজন লোক সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুর করবে ও তার ড্রাইভারকে মারধর করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সাবেক একজন মন্ত্রী, অধ্যাপক, বিসিএস ক্যাডার লাঠিহাতে নিয়ে ময়লার গাড়ি পুড়িয়েছেন এ কথা কেউ মানবেন না। এরকম মামলায় যদি তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়, এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?”
ফখরুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে রিমান্ডের বিরোধিতার পাশাপাশি তার জামিন চান রফিকুল ইসলাম মিয়া।
ফখরুলের অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদারের ‘মিথ্যা মামলায় ফখরুলকে রিমান্ডে নিলে এ দেশে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসবে’, এমন বক্তব্য দিলে তার প্রতিবাদে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ করেন। এক পর্যায়ে তারা এজলাসেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।
মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু এবং ঢাকা বারের সভাপতি বিএনপিপন্থি আইনজীবী বোরহান উদ্দিনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দুই দফায় শুনানি শেষে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং একই সাথে পুলিশের রিমান্ড আবেদনও খারিজ করে দেন।
ওই আদালতে শুনানির পর একই এজলাসে উঠেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ। শেরেবাংলানগর থানায় দায়ের করা এই মামলায় সাত দিনের হেফাজত চেয়ে শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আলম তালুকদার বলেন, “ পূর্ব রাজাবাজার এলাকার পান্থপথের রাস্তায় রোববার সকাল সাড়ে ৫টায় মির্জা ফখরুলের প্ররোচনায় অপর আসামিরা একটি সরকারি গাড়ি ভাংচুর করে এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশে বোমা নিক্ষেপ করে। এ মামলায় ফখরুল এজাহার নামীয় ৬ নম্বর আসামি। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”
মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন তাঁর আইনজীবীরা বলেন, মির্জা ফখরুল কখনই ওই মিছিলে ছিলেন না। তিনি এ রকম কোনো মিছিলে থাকলে ও তার নেতৃত্বে গাড়ি ভাঙচুর করলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেতো।
মামলাটি মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানিমূলক আখ্যা দিয়ে তারা রিমান্ড আবেদন নাকচ করে মির্জা ফখরুলের জামিন চান।
এই মামলায়ও ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করে ও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ মর্মে তাঁর আইনজীবীরা কারাগারে চিকিৎসার আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ারও নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।
পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় প্রিজন ভ্যানে করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গনে সমবেত বিপুলসংখ্যক বিএনপিপন্থি আইনজীবী তাঁর মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেন।
রোববার ১৮-দলীয় জোটের ডাকা অবরোধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় ঢাকায় ৩৮টি মামলা হয়েছে। যার ৩৭টিতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আসামি করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুলকে আদালতে আনা উপলক্ষে আদালত অঙ্গনে নেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিএমএম আদালতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়।

এম. এস./৮.১৫
বিভাগ: সংবাদ সংযোগ   দেখা হয়েছে ৫৮৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :