ব্রেকিং নিউজ:
সম্মাননা পেলেন আরো ৬০ বিদেশি বন্ধু
এস.এম.বাবু    ডিসেম্বর ১৫, ২০১২, শনিবার,     ০১:১৭:৫৯

 

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা পালনকারী আরো ৬০ জন ব্যক্তি আর দুটি প্রতিষ্ঠানকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয়া হলো। শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬০ জনের হাতে সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানে উপস্হিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্হিত হতে পারেননি। এই দফায় যারা সম্মাননা পাচ্ছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, প্রয়াত ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যেপাধ্যায়। সাবেক কমিউনিস্ট নেত্রী প্রয়াত ইলা মিত্র। এছাড়াও নেপাল, শ্রীলংকা, যুক্তরাজ্যের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধুরা আছেন। এছাড়াও, সোভিয়েত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রাভদা ও ভারতের ত্রিপুরার আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পান্থ হাসপাতালকেও সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।
এর আগে প্রথম ধাপে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা জানানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৩ এবং তৃতীয় ধাপে ৬১ জনকে জানানো হয়েছে এই সম্মাননা। এছাড়াও সম্মাননা দেয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধ করে বীরপ্রতীক খেতাব অর্জনকারী একমাত্র বিদেশি প্রয়াত ডাব্লিও জে এস ওডারল্যান্ডও। ওডারল্যান্ড একাত্তরে
বাটা সু কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশে ছিলেন।
এছাড়াও একাত্তর সালে এদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলে নিজ দেশের শাষকদের তোপের মুখে পড়া পাকিস্তানি নাগরিক সাইয়েদ আসিফ শাহকারও এবার সম্মাননা পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিজ হাতে সম্মাননা পদক ও সনদ গ্রহণ করেন বর্তমানে সুইডেনের নাগরিকত্ব পাওয়া আসিফ শাহকার।
সম্মাননা প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘একাত্তর সালে আপনাদের অসামান্য অবদান বাঙালি জাতি কখনোই ভুলবেনা। আপনাদেরকে এই স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা গর্ব বোধ করছি।’ যাদেরকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে সেইসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরদিন অটুট থাকবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য কাজ করছে এবং এই বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করবোই। জাতি হিসেবে আমরা কলঙ্কমুক্ত হতে চাই বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ জুলাই সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেয়া হয়েছে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। তাঁর পক্ষে পূত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী এই সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন।
গত ২৭ মার্চ দ্বিতীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ৮৩ জন বিদেশিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয়া হয়।
তৃতীয় পর্বে গত ২০ অক্টোবর আরো ৬১ জন বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম।
এস.এম.বি/১২.২০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৮১৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :