ব্রেকিং নিউজ:
অতল শ্রদ্ধা-ভালবাসায় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল
এস.এম.বাবু    ডিসেম্বর ১৬, ২০১২, রবিবার,     ০৪:৫২:১৬

 

আবার ফিরে এসেছে ১৬ই ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্ত হয় বাংলাদেশ। প্রতি বছরের মত বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় দেশের জন্য প্রাণ দেয়া বীর সন্তানদের স্মরণ করছে।
১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা চালানোর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তির যুদ্ধের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে।
নয় মাস রক্তঝরা লড়ায়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রমনার রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও যুদ্ধে সক্রিয় সহায়তাকারী ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী। এর মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতি আজ বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকী পালন করছে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। রোববার সকালে শেরে বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়।
দিনটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙয়ের পতাকায় সাজানো হয়েছে।
আজ বীর শহীদদের আত্নার শান্তি কামনা,জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপসানালয়ে হবে মোনাজাত ও প্রার্থনা। এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশুপরিবারে উন্নত খাবার সরবরাহ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বিজয় দিবসের বাণীতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কনকনে শীত ও কুয়াশার চাদর উপেক্ষা করে ভোর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখও মানুষের ঢল নেমেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুসহ সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় আসেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া।
এরপর থেকে মুক্তিযু্দ্ধে প্রাণ হারানো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাভার স্মৃতিসৌধে হাজির হয় লাখো মানুষ। স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দল বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু ফুল হাতে বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের সবার কন্ঠেই আজ উচ্চারিত হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি। তারা চায় সোনার বাংলায় যেন একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হয়। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশা জানিয়েছেন তারা।

এস.এম.বি/১০.৫০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭২৩ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :