ব্রেকিং নিউজ:
দুদকের এজাহার নিয়ে প্যানেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হবে অর্থায়ন: গোল্ডস্টেইন
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ১৮, ২০১২, মঙ্গলবার,     ১০:১১:২০

 

বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের দায়ের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক প্যানেল যে প্রতিবেদন দেবে, তার উপরই নির্ভর করবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত ।
মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।
বিবৃতিতে গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে।’
সোমবার পদ্মাসেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান সন্দেহভাজন দু’জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে বাদ দিয়ে করা দুদকের এ মামলার ঠিক পরদিনই এ বিবৃতি দিলেন অ্যালেন গোল্ডস্টেইন।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এনে গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল।
এরপর, সেসময়কার যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অব্যাহতি বা নিষ্ক্রিয়তার (পদত্যাগ বা ছুটিতে পাঠানো)এবং দুর্নীতি তদন্তে দুদকের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে দুদকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার শর্ত দিয়ে ফের প্রকল্পে ফিরে আসতে রাজী হয় বিশ্বব্যাংক।
এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করতে লুই ওকাম্পোর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংক মনোনীত তিন সদস্যের একটি প্যানেল অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দু’বার ঢাকা সফর করে।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, পর্যবেক্ষক প্যানেলের দ্বিতীয় বারের সফরে দুদকের অনুসন্ধান দল প্রকল্পে দুর্নীতির চেষ্টার প্রমাণ পান।তবে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের তালিকা নিয়ে দুদকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দ্বিতীয় দফা সফর।
বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঢাকা ছাড়ার ৩ দিনের মাথায় ৮ ডিসেম্বর, বিশ্বব্যাংক এক বিবৃতিতে জানায় যে, সুষ্ঠ আর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দুদক কার্যকর আইনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক হলে পর্যবেক্ষক প্যানেল আর ঢাকা আসবে না।
এর ১০দিন পর, সোমবার ৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করে দুদক- এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে।
তবে দুদকের এই মামলায় নেই ‘আলোচিত দুই আবুল’– সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম।
আলোচনায় থাকা সাবেক এই দুই মন্ত্রী প্রসঙ্গে এজাহারে বলা হয়, ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রে তাদের ভূমিকার বিষয়ে অনুসন্ধানে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি দুদক। মামলার তদন্তের সময় তাদের বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

এম. এস./২২.১০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬০৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :