ব্রেকিং নিউজ:
দেশজুড়ে জামায়াতের তাণ্ডব: পুলিশসহ নিহত ৩৩
    ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৩, বৃহস্পতিবার,     ১১:২৪:২০

 

যুদ্ধাপরাধ মামলার জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসির দণ্ড দেবার প্রতিক্রিয়ায় দেশব্যাপী জামায়াতে ইসলামীর সহিংস তাণ্ডবে ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৩৪ জন নিহত হয়েছে।
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার দুপুরে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ব্যাপক তাণ্ডবে নামে জামাত শিবিরের কর্মীরা।
সাঈদীর ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা। এতে হতাহত হয়েছে বহু মানুষ।
রাজধানীতে একজনসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় তিন পুলিশসহ ৫ জন, ঠাকুরগাঁওএ ৫ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, রংপুরে ৫ জন, নোয়াখালীতে ২ জন, কক্সবাজারে ২ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, মৌলভীবাজারে ২ জন, চাপাইনবাবগঞ্জে ২ জন এবং দিনাজপুর এক জন মারা গেছে। এছাড়া নাটোরের লালপুরের যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করে জামাত শিবিরের কর্মীরা।
জামায়াত-শিবির কর্মীরা ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া বাজারের ছয়টি দোকান ভাংচুর করে। এ সময় তারা বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালায়। বাধা দিলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয় তারা। দুপক্ষের সংঘর্ষে মারা যায় ৫ জন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ৩০ জন।
সাতক্ষীরার কতমতলা বাজার থেকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে দোকান-পাট ও বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশের বাধার মুখে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মারা যায় ৫ জন। এসময় বিজিবি ও পুলিশের ১০ সদস্যসহ আহত হয় ৮০ জন।
রংপুরের মিঠাপুকুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মারা যায় ৩ জন। এছাড়া পুলিশের উপপরিদর্শকসহ আহত হয় ৫০ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরো দুজন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শিবির কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ মারা যায় ৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে নামানো হয়েছে বিজিবি।
নোয়াখালীর মাইজদী ও বেগমগঞ্জে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে। এসময় হামলাকালীরা পিছু হটে দত্তবাড়ী ও দত্তের হাটে ব্যাপক ভাংচুর করে। দুপক্ষের সংঘর্ষে মারা যায় ২ জন।
এদিকে রাজগঞ্জে কালি মন্দির ভাংচুর করে, বেশ কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দেয় শিবিরের কর্মীরা।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় জামায়াত শিবির কর্মীরা। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে মারা যায় একজন; আহত হয় ২২ জন। এছাড়া পেকুয়ায় শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে মারা যায় একজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিআরটিসি বাসসহ ৫ টি গাড়ীতে আগুন দেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এছাড়া বারোঘরিয়া, ব্শ্বিরোড মোড়, সিসিডিবি মোড়ে শতাধিক যানবাবহন ভাংচুর করে তারা। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে শিবতলা এলাকায় মারা যায় একজন। এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা সদরে সেলিমাবাদ এলাকায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হকের বাড়ীতেও হামলা করে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। এদিকে সোনামসজিদে শিবির কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা যান পর্যটন করপোরেশনের প্রকৌশলী তৌহিদ ইসলাম।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এবং বাঁশখালীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। দিনভর সংঘর্ষে ১ পুলিশ সদস্যসহ মারা গেছে ৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরও ৩০ জন। এসময় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেড় শতাধিক গাড়ি, দু’শতাধিক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ভাংচুর করেছে। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি।
নাটোরের কদিমচিলান এলাকায় শিবিরকর্মীরা টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটা করে একটি শটগান ও একটি রাইফেল ছিনিয়ে নেয়।
পরে শিবির কর্মীরা কদিমচিলান গ্রামে হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা খায়রুল বাশারকে পিটিয়ে হত্যা করে।
বিভাগ: দেশযোগ   দেখা হয়েছে ১৭৮৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :