ব্রেকিং নিউজ:
এক দশকে দারিদ্র্য কমেছে ২৬%
প্রতিবেদন: ঝুমুর বারী, সম্পাদনা: মাহবুব সাঈফ    জুন ২০, ২০১৩, বৃহস্পতিবার,     ০৮:০১:৩৬

 

এক দশকে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে এক কোটি ৬০ লাখ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক ।
"বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট: এ ডিকেড অভ প্রগ্রেস ইন রিড্যুসিং পোভার্টি, ২০০০-২০১০" নামে বিশ্বব্যাংকের এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত এক দশকে ২৬ শতাংশ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান দারিদ্র্য সীমার থেকে উপরে তুলে আনতে পেরেছেন । দশকের প্রথমার্ধে গড়ে প্রতি বছর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে ১.৮ শতাংশ হারে আর ২০০৫-২০১০ সময়ে দারিদ্র্য কমেছে ১.৭ শতাংশ হারে ।
বিশ্বমন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার এই মানোন্নয়নের মূল কারণগুলো হলো- মজুরি বাড়া, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়া, গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষার বিস্তার, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়া, নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমা এবং বিদেশ থেকে টাকার প্রবাহ বাড়া। তবে, এতো কিছুর পরও এখন ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে বলে জানায় বিশ্ব ব্যাংক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়োহানেস যুট ও আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশ বেশ ভালোই এগিয়েছে। তবে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারন মানুষের আরো দক্ষতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিপননে আনতে হবে বহুমুখিতা।
মুহিত আরো বলেন, দারিদ্র বিমোচনের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও বিকেন্দ্রিকরণ করতে হবে এবং স্থানীয় সরকারকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, "দারিদ্র বিমোচনের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ঠিকভাবে এগিয়েছে। তবে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দরিদ্র লোকদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়াতে সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর জোর দিতে হবে।"
বাংলাদেশের সব গরীব মানুষ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির সুবিধা পেলে দারিদ্র বিমোচনের হার আরো বাড়ানো সম্ভব হতো বলে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টটিতে।

এম. এস. /১৭.৫৪
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬৪৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :