ব্রেকিং নিউজ:
আল-বদর নেতা মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ
মিলটন আনোয়ার    জুলাই ১৭, ২০১৩, বুধবার,     ০৮:৩১:৫৫

 

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও মুক্তিযুদ্ধের সময় আল-বদর বাহিনীর প্রধান আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে হত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা এবং ফরিদপুরের বকচরে হিন্দুদের হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেয়া হয়।
একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী প্যারামিলিশিয়া বাহিনী আল বদর-এর প্রধান ছিলেন আলী আহসান মুজাহিদ। দেশ যখন স্বাধীনতার দোড়গোড়ায়, ঠিক তখনই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে আল বদর বাহিনী। আর এই বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন মুজাহিদ। তার পরিকল্পণা ও নির্দেশে হত্যা করা হয় সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা রুমী, বদি, জুয়েল ও আজাদকে।
একইসঙ্গে মুজাহিদের নিজ শহর ফরিদপুরে শত শত হিন্দুর ঘড়বাড়িতে আগুন দেয়া, তাদের হত্যা ও নারী ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হত্যা, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পণা ও ফরিদপুরের বকচরে হিন্দুদের হত্যা ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় মুজাহিদকে ফাঁসির দন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। সুরকার আলতাফ মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা রুমী, বদি, জুয়েল ও আজাদকে হত্যায় সম্পৃক্ত থাকায় দণ্ড হয় যাবজ্জীবন।
ফরিদপুরে রনজিৎ নাথকে হত্যার নির্দেশের সাথে যুক্ত থাকায় মুজাহিদের পাঁচ বছর জেল দেয় ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ফরিদপুরের কয়েকটি গ্রামে আগুন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো এবং আলফাডাঙ্গায় এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমান না হয়নি।
আসামী পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষে মুজাহিদের প্রধান কৌসূলী ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন এই রায় সঠিক হয়নি। তাদের আশা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথাও জানান তারা।
রায়ে ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল টিভি টক শো ও রাজপথের বক্তৃতায় রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যকারীদের সমালোচনা করে ।

এম. এস/ ১৪:১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭৪৭ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :