ব্রেকিং নিউজ:
৩৫ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল
অহিদুল ইসলাম    জুলাই ২১, ২০১৪, সোমবার,     ০২:০৮:১৪

 

যুদ্ধ না করে, ভুল ব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সার্টিফিকেট নেয়া ৩৫ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরা উপ-সচিব থেকে এলএমএসএস পদে কর্মরত আছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরি বাতিল ও প্রতারণার জন্য ফৌজদারী আইনে মামলা করা হবে। অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রতারণার মামলা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ৩০ জন, জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে ২ জন, মুক্তিযুদ্ধের মতো বয়স না হওয়ায় দুই জন ও দুই ঠিকানা সার্টিফিকেট থাকায় এক জনের নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে। সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারের কাছ থেকে তারা যে সব সুযোগ সুবিধা আদায় করেছে তা ফিরিয়ে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ট্রেনিং নিয়ে কয়েক লাখ বাঙ্গালী মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের ভিতরেও ট্রেনিং নিয়ে অনেকেই যুদ্ধে অংশ নেয়। এর বাইরেও মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারে যার কাজ করছেন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের সবাইকেই স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে সনদ দেয় সরকার।
শুরুতে অনেকেই সার্টিফিকেট না নিলেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা ও সরকারি চাকরিতে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো শুরু হলে সার্টিফিকেট নেয়াদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরির মেয়াদ ২ বছর বাড়িয়ে দিলে সার্টিফিকেট নেয়ার প্রবণতা আরো বাড়ে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার। গত পাঁচ বছরে সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা মিলিয়ে ১০ হাজার ১৫০ জন সার্টিফিকেট নিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেয়া সুবিধা গ্রহণের জন্য আবেদন করলে, এদের সনদ যাচাই বাছাই সরকার। অনেকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেও যাচাই-বাছাই শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৬ জনকে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। অন্যরা সার্টিফিকেট নিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে।
ভুয়া সার্টিফিকেট নেয়াদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলেও, সরকারি যে সব কর্মকর্তা এসব সার্টিফিকেটের যাচাই-বাছাইয়ে ছিলেন, তাদের ব্যপারে অনেকটা নমনীয় প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট দেয়ার সাথে সরকারের কর্মকর্তারা জড়িত থাকলেও থাকতে পারেন। তবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা কষ্ট হবে”। তাই ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে বিভাগীয় ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সাধুবাদ জানালেও বলেছেন, সার্টিফিকেট দেয়ার সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে”।
তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালের পরই ভুয়া মুক্তিযুদ্ধার সনদ দেয়া শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধার হাতে আহত এক রাজাকারও সার্টিফিকেট নিয়েছিলেন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বলে। তখন পত্রিকায় বিষয়টি আসলে ওই সময়ের সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। তবে এখন জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এটা বড় ব্যপার। কিন্তু যারা দায়িত্ব অবহেলা করেছে, সে সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে”।
এ নিয়ে ১৫১ জনের সার্টিফিকেট বাতিল করলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অই/এমএস/১৮.৪৫
বিভাগ: শীর্ষ সংবাদ   দেখা হয়েছে ৪১৫২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :