ব্রেকিং নিউজ:
রোহিঙ্গা, নিপীড়িত রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী
ইউনুস রাজু/ মা. সাঈফ    জুন ২২, ২০১২, শুক্রবার,     ০৭:৫৮:১৮

 

দেড় হাজার বছরের যাযাবর জীবন রোহিঙ্গাদের। আধুনিক বাঙ্গালিদের কাছে মিয়ানমারকে পরিচিত করেন সম্ভবত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টপ্যাধ্যায়। তার উপন্যাস বাঙালি পাঠকের কাছে পরিচিত করে ইয়াঙ্গুন বা আকিয়াব বন্দরকে- সারি সারি বাঙালি জাহাজ নোঙর করে সেখানে। বোঝা যায়, শিল্পসাহিত্যে আর বাণিজ্যে কতটা সমৃদ্ধ ছিল রেঙ্গুন। উঠে আসে আরাকান রাজসভার কথাও।
এই আরাকান রাজসভায় রচিত হয়েছিল মুসলিম সাহিত্যের অনুপ্রেরনা- কবি আলাওলের পদ্মাবতী কাব্য । আলাওলের সাথে উঠে আসেন কোরোশি মাগন ঠাকুর, দৌলত কাজী, কাজী মরদান এর মত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম আরো অনেক নাম। যে রাজসভায় বাংলা সাহিত্য পেয়েছিল মধ্যযুগের কাব্য সতীময়না লোরচন্দ্রানী'র মত কাব্য।
আরাকানকে বারবার উল্লেখিত হয়েছে রোসাং, রোসাঙ্গো দেশ ও রোসাঙ্গো শহর নামে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন বছর পর ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হয় মিয়ানমার। ব্রিটিশ চলে গেলেও রেখে যায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বীজ। আরাকান প্রদেশে বৌদ্ধ রাখাইন আর মুসলিম রোহিঙ্গাদের সাম্প্রদায়িক বিভাজন।
স্বাধীনতার পরপরই আরাকানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে একটি ব্যর্থ সশস্ত্র বিদ্রোহ করে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। এজন্য চরম মূল্য দিতে হয় তাদের। অচ্ছুৎ বলে চাকরিতেও নিয়োগ বন্ধ। চলাচলে আনা হয় নানা বিধিনিষেধ।
১৯৬২ সালে জেনারেল নে-উইন রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সালে জরুরি আইনে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা কেড়ে নেয়া হয়। এর পরের ইতিহাস শুধু না পাওয়ার। শতবছরের বঞ্চনা আর লাঞ্ছনার। নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের কাটে পরবাসী জীবন।
বিশ্বের ইতিহাসে রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায়ও নাম লিখা হয়ে যায় রোহিঙ্গাদের।
স্বাধীনতার পর থেকেই বারবার সামরিক শাসন, বেড়েছে নির্যাতন নিপীড়ন। পাড়ি দিতে হয়েছে শত সহস্র মাইল। কখনো তারা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। কারো জায়গা হয়েছে থাইল্যান্ড সীমান্তে। রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের শেকড় থাকলেও তা অস্বীকার করে মিয়ানমার।
বিভাগ: বিশ্বযোগ   দেখা হয়েছে ১৩৪৬ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :