ব্রেকিং নিউজ:
যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো ও গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রুখতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী
অহিদুল ইসলাম/ মাহবুব সাঈফ    জুলাই ১৪, ২০১২, শনিবার,     ০৯:৫৬:১২

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো ও গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে দেশে যে গণতন্ত্র এসেছে, তা যেন কেউ নৎসাত করতে না পারে সেদিকে যুবলীগকে সর্তক থাকার আহবানও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছরে ৬ষ্ঠ কংগ্রেস। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এবারের কংগ্রেসের হলো প্রায় ১০ বছর পর। মেঘলা দিনে বর্ণিল আয়োজনে প্রধান অতিথি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত যুবলীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর সামনে দেয়া এ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর যেনো কেউ বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন খেলা খেলতে না পারে- সেজন্য গ্রামেগঞ্জে যুবলীগকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে।”
এরপর তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে বিরোধীদলের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন । শেখ হাসিনা বলেন, “তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এজন্য যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া, তার ছেলেরা ও অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পায় বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী জানান ২০০৫ সালে বিএনপির দুর্নীতির জন্যেই বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সাড়ে ৩ বছরে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ৭৫ লাখ বেকার যুবকের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এরপর দেশাত্মবোধক ও দলীয় সংগীতের সঙ্গে শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।
এবারের কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা, দলীয় সংসদ সদস্যসহ চীন, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, ভারত ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগ প্রতিষ্ঠার সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালনকারি শেখ ফজলুল হক মনি ও নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে একই পদে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কংগ্রেসে আমির হোসেন আমু সভাপতি ও ফকির আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে সভাপতি ও ফুলু সরকারকে সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে চতুর্থ কংগ্রেসে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতি ও কাজী ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে পঞ্চম কংগ্রেসে জাহাঙ্গীর কবির নানককে সভাপতি এবং মির্জা আজমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় ।
ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, প্রাক্তন সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

ও. ই./ এম. এস./ ১৬.৪৫
বিভাগ: দেশযোগ   দেখা হয়েছে ৫৮৩ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :