ব্রেকিং নিউজ:
দাপুটে জয়ে শুরু টাইগারদের টি-২০ মিশন
মাহবুব সাঈফ    জুলাই ১৮, ২০১২, বুধবার,     ০২:১১:০০

 

ব্যাটিং–বোলিং দু-জায়গাতেই দুর্দান্ত নৈপূণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশ ৭১ রানে জিতেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
দুই বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানি আর আব্দুর রাজ্জাকের বোলিং বিষে ভেঙ্গে গেছে আইরিশদের কোমড়-টাইগারদের ছুঁড়ে দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করা আর হয়নি তাদের- শেষতক ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান করতে পারে স্বাগতিক দল। আর বাংলাদেশ তুলে নেয় ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আইরিশদের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেবার মধুর প্রতিশোধ।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অভিষেকেই ১৩ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন ন্যাটা স্পিনার ইলিয়াস সানি। ২০ ওভারের স্বল্প-দৈর্ঘ্যের ম্যাচে এই দেশসেরা বোলিং পরিসংখ্যান অর্জনের পথে সানি পেয়েছেন একটি মেডেনও। আইরিশ বধে তাকে দারুণ সংগ দিয়েছেন মিতব্যায়ি রাজ্জাক- ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে রাজ্জাক নিয়েছেন দুই উইকেট।
বৃষ্টির জন্য আধঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া খেলায় বেলফাস্টের স্টরমন্ট সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট মাঠে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মেঘলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ম্যাচ ধুয়ে যাওয়ার শংকার মাঝে ব্যাটিং করে টাইগাররা ৫ উইকেটে তোলে ১৯০ রান- ২০০৬-এর টি-টোয়েন্টি অভিষেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ রানের (১৬৬) রেকর্ডকে টপকে ।
বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে যেন নামল ছক্কা-বৃষ্টি- ৬৯ রান,৭ ছক্কায়। এর ৫টিই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সদ্য-অভিষিক্ত জিয়াউর রহমানের ব্যাট থেকে। বাকি দুটি এসেছে সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে।
জিয়াউর-ঝড়ের (১৭ বলে অপরাজিত ৪০ রান ) পাশাপাশি টাইগারদের ইনিংসে বড় অবদান রেখেছে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া সাকিব আল হাসানের ব্যাট।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ৩৩ বলে খেলেন ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে ৯টি চারের মারও আছে, যার ৩টিই জন মুনির এক ওভারেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই সাকিবের প্রথম অর্ধশতক।
এর আগে তামিম ইকবাল এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৫ রান। আশরাফুল ১৩ বলে ১৫ রান তুলে ম্যাক্স সরেনসেনের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার পর তামিমের সঙ্গে সাকিব গড়েন দুরন্ত ৯.৩১ রান রেট-এ ৫৯ রানের জুটি। ১২.২ তম ওভারে তামিম ৩১ বলে ৩১ রান করে পল স্টারলিংয়ের বলে মুনির হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন।
এরপর দলীয় ১১৪ রানে স্টারলিংয়ের বলে বোল্ড হয়ে সাকিব ও দলীয় ১২০ রানে অধিনায়ক মুশফিকুর(৬ রান) দ্রুত আউট হয়ে গেলে টাইগারদের ইনিংসের মিডলঅর্ডারে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ(১৫ বলে ১ চার ও ২ ছয়ে ২৩ রান)ও অসাধারণ ব্যাটিং করা জিয়াউর।
১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আইরিশ উদ্বোধনী জুটি ৩.৪ ওভারে ৩২ রান তুলে নিলে যা একটু চিন্তায় পড়েছিলেন মুশফিকুর,দুই স্পিনাররা এসেই তা উড়িয়ে দিলেন। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থের বোলিং-এর পুরষ্কারও পান রাজ্জাক। প্রথম ওভারেই পোর্টারফিল্ডকে ২৬ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে দলকে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন এ বাঁহাতি স্পিনার। ২ রানের ব্যবধানে স্টারলিংকেও ফিরতে হয় রাজ্জাকের রানআউটের শিকার হয়ে। এরপরে শুরু হয় সানির ম্যাজিক স্পেল- একে একে ফিরিয়ে দেন ইডি জেসি, নিয়াল ও’ব্রেন, জন মনি, অ্যালেক্স কুসাক ও ট্রেন্ড জনসনকে। ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই আয়ারল্যান্ডকে ১১৯ রানে আটকে দেওয়ার মূল নায়ক। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সর্ব্বোচ্চ ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন গ্যারি উইলসন।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল বেলফাস্টের স্টরমন্ট-এ স্থানীয় সময় বিকাল ৫.০০ টায়।

এম. এস. /০১.৫৫
বিভাগ: খেলাযোগ   দেখা হয়েছে ৫৪৭ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :