ব্রেকিং নিউজ:
বাচ্চু রাজাকার বেত্তান্ত
মাহবুব সাঈফ    জুলাই ২৬, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ০৩:৫৬:৩২

 

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেওয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় ৪২ নম্বরে থাকা মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার যে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে,অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পাকবাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিয়েছে এবং আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে শনাক্ত করেছে; বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের ধরে এনে পাক সেনাদের ক্যাম্পে বিনোদনের রসদ হিসেবে সাপ্লাই দিয়েছে- তা সবারই জানা। বাচ্চু রাজাকার ফরিদপুরে জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ফরিদপুর সদর, বোয়লামারী, নগরকান্দা, মধুখালী, কামারখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় যেসব নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তার নেতৃত্বে “খাড়দিয়ার মেলিটারি”নামের বাহিনী পাক-বাহিনীর দোসর হিসেবে প্রায় ৫০ গ্রাম জনপদে খুন আর ধ্বংসের যে তান্ডব চালিয়েছিল, তার বর্ণনা ক্রাইম থ্রিলারেরই মতই লোমহর্ষক।
আবু সাঈদ খান প্রণীত ‘মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর’বইয়ের ১৬৯-১৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ‘বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় ’৭২ সালে দালাল আইনে যে মামলা হয়েছিল তার নম্বর-১৯ ও ২০, তারিখ ২৩/৩/৭২, ধারা। এই মামলার কারণে পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে হাজতে ঢোকানো হয়। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে জেল থেকে বের হয়ে বাচ্চু মাওলানা আবুল কালাম আযাদ নাম নিয়ে নতুন জীবন শুরু করে। স্বাধীনতার সময় লুট করা কোটি টাকার সম্পদ দিয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করে হয়ে উঠে ইসলামবেত্তা- এড়িয়ে চলে যুদ্ধাপরাধের শাস্তিও। ধীরে ধীরে গড়ে তোলে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম ফ্যানাটিক গ্রুপের সাথে সম্পর্ক -মধ্যপ্রাচ্যের World Assembly of Muslim Youth (WAMY) মত টেররিস্ট ফান্ডিং গ্রুপের সাথে নেটওয়ার্ক।বেসরকারী টিভি চ্যানেল এনটিভির “আপনার জিজ্ঞাসা”অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ মানুষের ইসলাম সম্পর্কিত নানা প্রশ্নের জবাব দিতেন। ইসলামের সেবক ও টিভি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিভিন্ন ইসলামী আলোচনাসভা বা মিটিং-এ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ইফতার পার্টির বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আসন পান। ‘বাচ্চু রাজাকার বনে যান আমাদের সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তথাকথিত আলেমদের সর্দার।
টিভি ব্যক্তিত্ব ও ইসলামের সেবক হিসেবে নিজেকে জাহির করা বাচ্চু ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, ২০ শে সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে বেসরকারী এক টিভি চ্যানেলে তিনি রাজাকার ছিলেন না বলে দম্ভোক্তি করেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক প্রবীর সিকদারসহ (দৈনিক জনকণ্ঠে বাচ্চুসহ ফরিদপুর অঞ্চলের রাজাকারদের নিয়ে ‘তুই রাজাকার’ শীর্ষক প্রামাণ্য সিরিজ প্রতিবেদন করায় সশস্ত্র হামলার শিকার) কয়েকজন সংবাদিকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তাদের নিয়ে কটুক্তি করেন।
এই বক্তব্য টিভিতে প্রচারিত হবার পর এর প্রতিক্রিয়ায় "একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি" ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন বলেন, ‘খাড়দিয়ার বাচ্চু এখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ সেজে টিভিতে যেসব কথা বলছে তা হাস্যকর। ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ জানেন, ৭১ সালে সে রাজাকার ছিল। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে বিলম্ব করাতে এসব মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তি এতো বড়ো বড়ো কথা বলার সাহস পাচ্ছে। এই কুখ্যাত রাজাকার বাচ্চু একাত্তর সালে নারীদের ধরে এনে নির্যাতন চালাতো- ফরিদপুর শহরের দুটি হিন্দু বাড়ি দখল করে সেখানে নির্যাতন ক্যাম্প বসিয়েছিল। লুটের টাকা দিয়ে সে ঢাকার মিরপুরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি বাড়িও কিনেছে। তাকে ধরে আইনের আওতায় এনে পুরো জাতির সামনে বিচার করতে হবে। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ব্যাপারে সে যেসব কটুক্তি করেছে তার জন্য তাকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।"
সব যুদ্ধাপরাধীদের মুখোশ খুলে দিন। ভাবতে অবাক লাগে--হত্যাকারী,ধর্ষনকারী এসব লোক এখনো আমাদের ধর্মের সবক (জ্ঞান) দেয়।

এম.এস/১৬.৪৫
বিভাগ: FIR    দেখা হয়েছে ১৪৫৮ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :