ব্রেকিং নিউজ:
অলিম্পিকের চোখ ধাঁধাঁনো উদ্বোধন
ফাহিম রহমান    জুলাই ২৮, ২০১২, শনিবার,     ০১:৫০:০১

 

চোখ ধাঁধাঁনো রং আর সুরে ভাসিয়ে শুরু হলো অলিম্পিক গেইমসের ৩০তম আসর। বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে মশাল স্তম্ভে এবার আলো দিয়েছে নবীনরা। গেইমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
কোটি কোটি ব্যাকুল চোখের অপলক দৃষ্টি লন্ডন শহরকে ঘিরে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা ১২ মিনিট। সবার চোখ ঝলকে দিয়ে উদ্বোধন হলো খেলাধুলা জগতের জমকালো আসর ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক গেমসের। পূর্ব লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ জাতি জানিয়ে দিল সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে আর এর নয়নাভিরাম উপস্থাপনায় তারা এখনও অনন্য। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় রাত আটটা বারো মিনিটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও নিখুঁতভাবে ‘টিউনিং’ করা একটি ঘন্টার ধ্বনি বাজিয়ে জানানো হয় উদ্বোধনী বার্তা। ঘন্টা বাজান ট্যুর ডি ফ্রান্স জয়ী ব্র্যাডলি উইগিন্স।
দরজা যেন খুলে দিল লন্ডন আর বাকি বিশ্বের নজর পড়লো বৌল স্টেডিয়ামে। দেখা মিললো সাজানো গোছানো পরিপাটি সেই প্রাচীন সভ্যতার। অস্কার বিজয়ী সুরকার ড্যানি বয়েল বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে অনন্য দক্ষতায় ব্যবহার করেছেন আধুনিক প্রযুক্তি। তার পরিচালনায় ‘বিস্ময়ের দ্বীপ’ অনুষ্ঠানের শুরুতে তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাজ্যের গ্রামীণ ‘সবুজ ও সমাহিত’ পটভূমি। খামারের আসল গবাদি পশুই ব্যবহার করেন বয়েল। দেখানো হয় গ্রামীণ ক্রিকেট ম্যাচও।
মিলিয়ন পাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুটা এভাবেই সাজালেন অস্কার জয়ী ড্যানি বয়েল। ধীরে ধীরে সেই সভ্যতায় লাগতে থাকলো আধুনিকতার ছোঁয়া। ‘জেরুসালেম, ড্যানি বয়, ফ্লাওয়ার অব স্কটল্যান্ড ও ব্রেড অব হেভেন’ এই চার গানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের চার দেশকে তুলে ধরা হয়েছে। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অমর নাটক টেমপেস্টের ছোট্ট অংশ এ সময় ব্যবহার করেন বয়েল। নিপুণ দক্ষতায় দেখানো হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব। এরপর বড় পর্দায় দেখানো হয় সিক্রেট এজেন্ট জেমস বন্ডের একটি শর্ট ফিল্ম। এর শেষ পর্যায়ে একটি হেলিকপ্টারে করে ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথকে নিয়ে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পৌঁছান বর্তমান বন্ড ড্যানিয়েল ক্রেইগ। রাণী স্টেডিয়ামে আসার পরপরই বেজে ওঠে ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত। পরের পর্বটি শিশুদের। জেকে রাওলিংয়ের জনপ্রিয় চরিত্র জাদুকর হ্যারি পটার ও তার প্রধান শত্রু লর্ড ভলডারমট আরেকবার মুখোমুখি হন অলিম্পিকের উদ্বোধনী আসরে। বরাবরের মতো হেরেই বিদায় নিতে হয় ভলডারমটকে। ছিলেন ছোট-বড় সবার প্রিয় চরিত্র মিস্টার বিন খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসন। মিস্টার বিনকে দেখেই হাসির রোল পড়ে পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে। এরপর এলেন আরো একজন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক স্যার টিমোথি বার্নার্স লিও। এরপরই অনুষ্ঠানে আলো ছড়ালো বাংলাদেশ। বাঙ্গালী বংশোদ্ভূত আকরাম খান তাঁর দল নিয়ে পরিবেশন করলেন জীবন মৃত্যুর গল্প। তার সাথে সুর মেলালেন অ্যামিলি স্যান্ড। এরপরই শুরু হলো মার্চপাস্ট, অলিম্পিকের ঐতিহ্য মেনে সবার আগে এলো গ্রীস। এরপর বাংলাদেশের পতাকা হাতে সাঁতারু মাহফিজার। সবশেষে এলো আসরের আয়োজক আর সবচেয়ে বড় দল গ্রেট ব্রিটেন। স্বাগত বক্তব্য দিলেন এবারের আসরের আয়োজক কমিটির প্রধান সেবাস্টিয়ান কো। এরপরই উদ্বোধের ঘোষনা এলো রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কন্ঠে।
অলিম্পিকের এ আসরে ৩০০টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন ২০৫টি দেশের ১০ হাজার ৫০০ অ্যাথলেট। বাংলাদেশ থেকেও ৫ সদস্যের দল অংশ নিয়েছে লন্ডন অলিম্পিকে। এ স্টেডিয়ামেই ১২ আগস্ট পর্দা নামবে এই মহাযজ্ঞের।

এস.এম.বি/১২.১৫


বিভাগ: খেলাযোগ   দেখা হয়েছে ২২০৮ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :