ব্রেকিং নিউজ:
বুয়েটের আন্দোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
নিউজ ডেস্ক    জুলাই ৩১, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৩:৪৬:৩৬

 

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বুয়েটের চলমান আন্দোলনের উপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়।
বুয়েটের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুয়েট সংকট সমাধানে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবি ইউনুস আলী আকন্দ রোববার এই রিট আবেদন করেন। এতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুয়েট বন্ধের আদেশ তুলে নেওয়া, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বুয়েট ক্যাম্পাসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।
আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, “আদালত রুল জারির পাশাপাশি বুয়েটের চলমান আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পাশাপাশি আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারকে সেখানকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বলা হয়েছে।”
বুয়েট উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম গত ১০ জুলাই ৪৪দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের যে আগাম ঘোষণা দেন, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করারও আদেশ চাওয়া হয় এই রিট আবেদনে। তবে এ বিষয়েও আদালত কোনো আদেশ দেয়নি।
আন্দোলন বন্ধে হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে বুয়েটের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তারা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি পূরণ না হলে গণপদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সোমবার তারা জানান, সরকারের প্রতি আস্থা রেখে তারা গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করছেন। তবে তারা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এর আগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ এবং বুয়েট খুলে দেবার দাবিতে ১৬ জন বিভাগীয় প্রধান, ৩ জন ডিন এবং ৩ জন একাডেমিক ডিরেক্টরসহ ২৩ শিক্ষক পদত্যাগ করেন।
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি এর আগে গত ৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে সমিতি আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করে।
তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা কর্মবিরতি পালন করছিলেন শিক্ষকরা।

এম. এস./ ২০.৩৮
বিভাগ: দেশযোগ   দেখা হয়েছে ৫৪৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :