ব্রেকিং নিউজ:
এক মিনিটে ধরে রাখা কলঙ্কের ইতিহাস...
পার্থ সনজয়    আগষ্ট ১৫, ২০১২, বুধবার,     ০৩:৩৪:৩৯

 

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে উর্ধ্বতন চিত্রগ্রাহক ছিলেন জিয়াউল হক। ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধুর ছবি তোলার জন্য তাকে সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা উঠিয়ে নিয়ে যায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে বঙ্গবন্ধুর ক্ষতবিক্ষত ছবি।
১৫ আগষ্ট। সকাল ন’টায় মেজর রশীদের নেতৃত্বে একদল সামরিক জওয়ান জিয়াউল হককে তার ক্যামেরাসহ ধরে নিয়ে আসে ৩২ নম্বর বাড়িতে। তিনি তখন জেনে গেছেন বঙ্গবন্ধু নেই। তবে নিহত বঙ্গবন্ধু’র ছবি তোলা হবে কীনা, তা নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যেই বিতর্ক ছিল। পরে অনুমতি মিললে মেজর রশীদ বেলা ১১ টায় জিয়া হককে নিয়ে ঢোকেন ৩২ নাম্বার বাড়িতে।
সেদিনের ভয়াল সেই দৃশ্যের কথা মনে হলে আজও আঁতকে উঠেন জিয়াউল হক। নৃশংস সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমাকে যখন বাড়ির দ্বোতালায় নিয়ে যাওয়া হলো, সিঁড়ি বেয়ে যখন উঠছিলাম, দেখি রক্তের ছাপ পড়ে আছে। এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো বঙ্গবন্ধুর ছবি তুলতে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষতবিক্ষত শরীরটা দেখে আমি থমকে যাই। যে আঙ্গুল উঁচিয়ে একদিন স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন,সে আঙ্গুলটিও হাত থেকে আলাদা হয়ে গেছে। একদিন যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সাত কোটি মানুষ, আজ তাঁর এমন পরিনতি! আমি থরথর করে কাঁপছি,শরীরে যেনো কোন শক্তি নেই আমার। কাঁপতে কাঁপতে আমি বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত ছবি তুলি। এরপর পাশের ঘরে যাই। সেখানে দেখি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মীনির লাশ। সে ছবি আমাকে তুলতে দেয়া হলোনা। তাঁর লাশ ডিঙ্গিয়ে যাই কামালের ঘরে,দেখি লন্ডভন্ড ঘরে কামালের নিথর দেহ। শেখ জামালেরও বারুদ পোড়া রক্তমাখা শরীরটা ক্যামেরাবন্দী করি। পুরো বাড়িটা রক্ত আর বারুদের গন্ধে যেনো ভরে ছিলো। এদিক সেদিক যেদিকেই তাকাই শুধু রক্ত আর লাশ!
তিনি আরও জানান, প্রথমে তার মনে হয়েছিল ঘাতকরা হয়তো তাকে দিয়ে ছবিগুলো তুলে নিয়ে তাকেও মেরে ফেলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর মারেনি ঘাতকরা।
সেদিন মাত্র ৩০ ফুট, মানে ১ মিনিটের মতো ছবি তুলতে পেরেছিলেন জিয়া। সে ছবিগুলো পরে আবার দেখতে পেয়েছিলেন ২০০০ সালে। বিটিভির উদ্যোগে মাদ্রাজ থেকে ব্লো আপ করে আনা হয়েছিল সে ছবিগুলো। ৫টি ডিভিডি করা হয়েছিল। এরপর ঐতিহাসিক সেই ডিভিডি কাদের কাছে আছে তা জানেন না জিয়া হক।
পি.এস/এস.এম.বি/০৬.১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ২২৮৬ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :