ব্রেকিং নিউজ:
জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা ইউনুস ঢাকায় গ্রেফতার
নিউজ ডেস্ক    আগষ্ট ১৬, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ১২:৪৭:৪৮

 

পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ শাখার প্রধান মাওলানা মো: ইউনুস আলী ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ফকিরেরপুল এলাকা থেকে জামায়াতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট এই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে,ইউনুস আলী (৪৮) কক্সবাজারের রামু উপজেলায় একটি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতো। গত বুধবার জাল পাসপোর্টে বিদেশ যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা রোহিঙ্গাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জইশ-ই-মোহাম্মদ এখনও কোনো নাশকতা ঘটানোর মতো শক্তি জোগাড় করতে পারেনি। তবে অন্য ধর্মীয় ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এর যোগসাজস উদ্বেগজনক।
৯৭ সালে বাংলা ভাইয়ের সংগঠন হিসাবে পরিচিত জামাতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশ - জেএমবি, মুফতি হান্নানের সংগঠন হরকাতুল জিহাদ - হুজির কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতার খবর ছিল। কিন্তু এবারই প্রথম বাংলাদেশে জইশ-ই-মোহাম্মদের সাংগঠনিক তৎপরতার খবর জানা গেলো।
চলতি সপ্তাহেই হিযবুত তাহরীর সন্দেহে র্যা বের হাতে ৩৫ জন আটক হয়। সেবারই ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আঁতাতের ঘটনা পরিষ্কার হয়ে উঠে।
এর আগে ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর মিরপুর রোড থেকে জইশ-ই-মুহাম্মদের দুই সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব । এদের একজন পাকিস্তানি নাগরিক রেজোয়ান আহমেদ ছিল পাকিস্তানভিত্তিক এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী। এরপর জুনের ৩ তারিখে আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে জে. এম. জঙ্গিদের অন্যতম আশ্রয়দাতা এ কে এম মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব।জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মহিউদ্দিন ঢাকায় ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিল।
র্যা ব সূত্র জানায়,পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের এসব জঙ্গিরা মূলত বাংলাদেশে বসে ভারতে নাশকতার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কাজ পরিচালনা করে। আরপিজি (রকেটচালিত গ্রেনেড), ভারী মেশিনগান ও স্নাইপার রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র চালনা ও চলন্ত রেলে বোমা হামলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলা চালাতেও প্রস্তুত। এদের অনেকে ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাঠমান্ডুতে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাজাও খেটেছে।
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা ১৮০ জন যাত্রীসহ IC 814 ফ্লাইটটিকে অমৃতসর,লাহোর ও দুবাই হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যায়। পরে ভারতের কারাগার থেকে পাকিস্তানের হরকাতুল আনসারের তত্কালীন মহাসচিব মওলানা মাসউদ আজহার, আহমেদ ওমর সাইদ শেখ (পরে মার্কিন সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) ও আল-উমর মুজাহিদীনের নেতা ভারতীয় নাগরিক মুশতাক আহমেদ জারগারকে মুক্তি দিয়ে নিরাপদে আফগানিস্তানে যাওয়ার সুযোগ দিলে ওই বিমান ছিনতাইয়ের অবসান হয়।
কারামুক্তির অল্পদিন পরে মওলানা মাসউদ আজহার ২০১০ সালের মার্চ মাসে জইশ-ই-মুহাম্মদ গড়ে তোলেন। হরকাতুল মুজাহিদীনের অধিকাংশ সদস্যই মওলানা আজহারকে অনুসরণ করে নতুন দল জইশ-ই-মুহাম্মদে যোগ দেয়।
মার্কিন সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল হত্যা আর ভারতের সংসদ ভবনে লস্কর তইয়েবার সাথে একযোগে হামলার ঘটনায় জঙ্গী সংগঠন হিসাবে জইশ-ই-মোহাম্মদের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে।
২০০২ সালের জানুয়ারী মাসে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ সরকার জইশ-ই-মুহাম্মদকে নিষিদ্ধ করলে দলটি নাম বদলে খাদ্দাম- উল- ইসলাম হিসেবে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

এফ. আর./ এম. এস./ রাত ৭.১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭১৭ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :