ব্রেকিং নিউজ:
৭ বছরেও শেষ হয়নি জেএমবি'র সিরিজ বোমা হামলার বিচার
নিউজ ডেস্ক    আগষ্ট ১৭, ২০১২, শুক্রবার,     ০৩:৩৬:১৮

 

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।দেশজুড়ে এই সিরিজ বোমা হামলার সাত বছর পার হলেও, আজো শেষ হয়নি এ ঘটনায় দায়ের করা ১৫৯টি মামলার ৬৮টির বিচার। জামিনে মুক্ত হয়ে অনেক আসামি ফের শুরু করেছে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের পূণর্গঠনের কাজ, ছদ্মবেশে চালাচ্ছে দাওয়াতি কার্যক্রম।
উগ্রপন্থি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়ে জেএমবি সেদিন দুপুর ১২টার দিকে আদালত, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-আধাসরকারি স্থাপনায় একযোগে বোমা হামলা চালায় ।এতে মারা যায় দু’জন, আহত হয় আরো ২ শতাধিক মানুষ।
জেএমবি’র জঙ্গিরা সেদিনের বোমা হামলার পরই থেমে থাকেনি। ১৭ আগস্টের পর তাদের চালানো একের পর এক আত্মঘাতী হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন মারা যান, আহত হন ৪ শতাধিক।
১৭ আগস্টের বোমাবাজির ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয় ১৫৯টি। এর মধ্যে ৯১টি মামলার বিচার শেষে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১২ জনের যাবজ্জীবন এবং ১০১ জনকে দেয়া হয়েছে নানা মেয়াদে সাজা। পলাতক রয়েছে ফাঁসির তিন আসামিসহ ৭৪ জন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি। আর এখনো বিচারাধীন আছে ৬৮টি মামলা- নিষ্পত্তি হয়নি প্রায় দুই বছর আগে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য হাইকোর্টে করা ২৯ জঙ্গির আপিল। এমন কি সাক্ষীর অভাবে থমকে আছে অনেক মামলার বিচার কার্যক্রমও।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর ৩৩টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা ১৮টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলায় বোমা বাহককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মামলার তদন্ত কাজ থেমে আছে।
জঙ্গিদের নির্মূলে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৪৮ জন আসামিকে এবং ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি দেয়া হয়েছে।
কিন্তু পলাতক এবং জামিনে মুক্ত ক্যাডারদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির মধ্যস্তরের নেতারা এখনো গোপন দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। থেমে নেই নিষ্ক্রিয় জেএমবি সদস্যদের চাঙা করা, নতুন সদস্য ও অর্থ জোগাড়ের তৎপরতা ।
এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, ধর্মকে পুঁজি করে কেউ নাশকতা চালানোর চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জঙ্গি দমন অভিযানের পাশাপাশি ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তোলা হয়েছে।
আর র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল জানান, জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পলাতক জঙ্গিদের ধরতে র‍্যাব ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এম. এস. /১৪.২৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ১৮৬২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :