সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে নিহত ১৬, নওগাঁরই ১৩

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।

সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জন আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গিয়ে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা বেশ দুরূহ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত প্রবাসীদের অধিকাংশের বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। এখন পর্যন্ত ১৩ জনের নামের প্রাথমিক তালিকা পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন প্রবাসীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে

কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের একই পরিবারের দুই ভাই—গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক। এছাড়া জান্নার ছেলে মো. রুবেল হোসেন এবং ফজলুর ছেলে কলিউদ্দিন প্রামাণিক।

বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ ও সোহেল রানা। খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম, সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন এবং মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম।

পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল এবং মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ।

শাহগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ।

এছাড়া আগুনে নিহত বাকিদের মধ্যে দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহী জেলায় বলে জানা গেছে।

সোফা কারখানায় আগুনের খবর আত্রাইয়ে পৌঁছানোর পর পুরো উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনরা বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার পর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিুজ্জামান নিহতদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা জানান এবং সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া মরদেহগুলো দেশে পৌঁছামাত্রই দ্রুত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃতদেহের পরিচয় সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাদের পরিবারের সম্মতি অনুসারে লাশ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।