জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক এই কূটনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে উষ্ণ ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানাতে প্রবাসীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি এখন সাজ সাজ রবে মুখরিত। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ৩৪টিরও বেশি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে এবং বিমানবন্দরে আয়োজিত স্বাগত কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ সমন্বয় সভা করছে। প্রবাসীদের টানানো এসব ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছে।
সোমবার ঢাকা ত্যাগ করে নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ সাইড ইভেন্টে যোগ দিয়ে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা আহ্বান করবেন।
একই দিনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন এন্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক ও পরিবেশগত সংকট সংক্রান্ত একটি বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদানকালে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দাবি ও ন্যায্যতার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
এই সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও বিশেষ নজর দেবে বাংলাদেশ সরকার। সফরকালে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান এবং শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা, ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী এবং শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগগুলো উপস্থাপন করবেন।
২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া প্রাতঃরাশ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সাথে তারেক রহমান তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং পরবর্তীতে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালসহ বিভিন্ন মেয়াদে এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দিয়েছিলেন।