বিশেষ সাক্ষাৎকার: বিডা প্রধান

আমলাতন্ত্রের ধাপে ধাপে আটকে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিয়ে সন্তুষ্ট নন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীরাও এখন বেশি যাচ্ছেন ভিয়েতনামে। বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুইং বিজনেস জরিপ বন্ধ হলেও ব্যবসা সহজ করতে বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হবে না। যদিও আমলাতন্ত্র এখনো দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে। জুলিয়া আলম এর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সরকারের নানা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম।

জুলিয়া: চূড়ান্ত হিসেবে ২০২১ সালে  দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রকৃত অর্জন এবং অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করে বিস্তারিত বলবেন কি? 

সিরাজুল: বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা জাতীয়ভাবে নির্ধারণ করা হয়। আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা তৈরি হয়েছিলো তা আপনি জানেন যে স্বাভাবিক পরিবেশ মাথায় রেখে, কিন্তু আমরা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তাই আমি বলবো লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি । যদি ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট এফডিআই এর কথা বলি তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে এটি জিডিপির ৩ শতাংশ হওয়ার  কথা, ২০২১ এ হওয়ার কথা ১.৭ শতাংশ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যেটা হয়েছে তা ১ শতাংশেরও কম। আমি বলবো এটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্যই হচ্ছে। আমাদের বিনিয়োগের জন্য যে পূর্বশর্তগুলো আছে সেটি আসলে উই আর ইন দি প্রসেস। 

বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামো  দরকার।  রাস্তা-ঘাট, পোর্ট, ইলেক্ট্রিসিটি, গ্যাস, পানি লাগে। আপনি জানেন বাংলাদেশ গত ৫০ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে অনেক এগিয়েছে। আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছি। আমরা গর্বের সাথেই বলি যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তারপরও আমরা কি সন্তুষ্ট কি-না বা আমাদের আত্মতৃপ্ত হয়ে থাকার সুযোগ আছে কি না এটি একটি বিষয়। 

আমি বলবো যে-না আমাদের আত্মতৃপ্ত  হওয়ার সুযোগ একেবারেই নাই। কারণ হলো যে আমরা এখনো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে, আমরা ডেভেলপিং কান্ট্রি হওয়ার সকল যোগ্যতা অর্জন করেছি কিন্তু আমাদেরতো ডেভেলপিং কান্ট্রি হয়েও সন্তুষ্ট থাকার কথা নয়। আমাদেরতো ডেভেলপড কান্ট্রির কাতারে যেতে হবে। দেশের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ভিশন আছে যেগুলো তিনি প্রকাশও করেছেন। বলেছেন ২০৩১ এ আমরা মধ্য আয়ের দেশ হবো এবং ২০৪১ উন্নত অর্থনীতির দেশ হতে চাই তাই সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন করতে হবে। 

অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল শক্তি হলো আপনি কত  বিনিয়োগ করতে পারছেন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আপনি কি করছেন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনেক উদ্যোগ আছে। যদি সড়ক যোগাযোগের বিষয়টি দেখি আমরা ভালো অবস্থায় আছি। যদিও এখনো কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে আশাকরি আমরা এগুলো ওভারকাম করতে পারবো। 

পোর্ট একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর ছিলো না অথচ বৈদেশিক বাণিজ্য আমদানি-রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি পোর্টগুলো। এতোদিন আমরা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করেছি এখান থেকে পণ্য আনা বা নেয়ার সময় সিঙ্গাপুর সি-পোর্ট অথবা কলম্বো সি পোর্ট ব্যবহার করে আমরা কাজগুলো করতাম। এখন আমরা গভীর সমুদ্রবন্দর করতে যাচ্ছি মাতারবাড়ীতে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। পায়রাতে আমাদের নতুন বন্দর হচ্ছে এবং মংলা বন্দরেরও কার্যক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে মংলার কার্যক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। 

আমি মনে করি যে পদ্মা ব্রিজ ইউল বি গেম চেঞ্জার ইন বাংলাদেশ ইকোনোমি।  এটা এমন এক শক্তি কেউ হয়তো হুট করে বুঝতেও পারবে না সাউথ, ওয়েস্ট বাংলাদেশ কিভাবে ট্রান্সফরমেশন হয়েছে এটা আপনারা দেখবেন। আমাদের বিমানবন্দরেরও অনেক ঘাটতি ছিল। পর্যটন মাথায় রেখে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ হচ্ছে। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের টার্গেটগুলো যদি অর্জন করতে হয় এগুলো করতেই হবে। 

বিনিয়োগের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ আছে। প্রথম কথা হলো যখনই কেউ বিনিয়োগ করতে আসে সার্ভিস সেক্টর বাদ দিলে অন্য যে কোনো সেক্টরে বিনিয়োগ করতে গেলে ল্যান্ড লাগে। বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশে ল্যান্ড পাওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীকে খাওয়ানোরও একটা দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্রের আছে সেটি মাথায় রেখেও আমাদের অ্যারাবল ল্যান্ড বা আবাদযোগ্য জমি যেনো নষ্ট না হয় সেটি মাথায় রেখে নীতি তৈরি করতে হয়েছে। এটাকে মোকাবেলা করার জন্য সারাদেশে ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এগুলো ডেভেলপমেন্ট স্টেজে আছে এগুলো হয়ে গেলেই আমরা বিনিয়োগের টার্গেট পূরণ করতে পারবো। 

আমরা তুলনা করি ভিয়েতনামের সাথে, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সাথে। অবশ্যই তারা আমাদের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে। ভিয়েতনাম ভালো আছে কারণ হলো যে করোনার ফরেন ইনভেস্টরদের মধ্যে এক ধরনের টেন্ডেন্সি হয়েছে রি-লোকেশনের। এর সুযোগটা ভিয়েতনাম যেভাবে পেয়েছে আমরা সেভাবে পাইনি। চায়না থেকে যতো রিলোকেশন হচ্ছে বিভিন্ন দেশে এর কিছু কিছু বাংলাদেশেও আসছে তবে ভিয়েতনামের তুলনায় সেটা অনেক কম। কারণ ভিয়েতনামে রি-লোকেশন সহজ। 

ইন্দোনেশিয়া বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে একটি এলাকা তারা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের জন্য ওপেন করে দিয়েছে তাই ওখানে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। 

আমদের অবকাঠামোর  প্রস্তুতি নিচ্ছি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও লোকাল ইনভেস্টমেন্টকে প্রমোট করতে।  এগুলো যখন তৈরি হয়ে যাবে তখন ইস্ট এশিয়া থেকে আমরাও পিছিয়ে থাকবো না। আর ভারতের সাথে তুলনা একটু কঠিন কারণ ভারত অনেক বড় দেশ জনসংখ্যাও বেশি  অর্থনীতির আকারও বড়। 

জুলিয়া: চলতি বছরের দুই মাস চলে গেলো এসময় বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন? বাকি বছরটা কেমন যাবে?

সিরাজুল: আমার কাছে যে তথ্য আছে ২০২১ এফডিআই প্রস্তাব এসেছে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ৮১০ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম । আমরা আশা করছি যে এটা বাড়বে যদি বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয় কারণ এখানে ইনভেস্টর মবিলিটি বড় একটি বিষয়। আমরা ইস্ট এশিয়া থেকে, চায়না, কোরিয়া, জাপান থেকে আশা করছিলাম যে ভালো বিনিয়োগ পাবো কিন্তু সেখান থেকে ইনভেস্টরেরা মুভ করতে পারছে না। এখন আমরা ওখানে যেতে চাচ্ছি বাংলাদেশের ইনভেস্টমেন্ট পটেনশিয়াল শো-কেস করতে, সেটাও কিন্তু আমরা করতে পারছি না এখন। 

জুলিয়া: ইজেডগুলোতে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আসা কি কিছুটা ধীর হয়ে গেছে? অনেকেই তাই বলছেন।

সিরাজুল: একটা উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই। চীন থেকে একটা ইনভেস্টমেন্ট আসতে চাচ্ছে অনেক আগেই তারা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে যে তারা গ্লাস তৈরি করবে। এজন্য ৬০ থেকে ৬৫ একর জমি তারা চাচ্ছে সমুদ্রতীর ও পোর্টের কাছাকাছি। তাদের দেয়ার মতো বিডার নিজস্ব জমি নাই। পলিসি হলো আপনাকে ইকোনোমিক জোনে যেতে হবে । বিনিয়োগ আকর্ষণের এটি বড় নিয়ামক হলো যে, সার্ভিস সেক্টর বাদ দিলে অন্য যেকোনো সেক্টরে বিনিয়োগ করতে গেলেই প্রথমে দরকার জমি। তারপর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি এবং সবকিছু ইকোনোমিক জোনকেন্দ্রিক হতে হবে। আপনি যে প্রশ্নটি করলেন এটা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে। আমরা যে ১০০ টি ইকোনোমিক জোন তৈরি করবো এর ১০টিও কিন্তু আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বেজা দিনরাত কাজ করছে তারপরও সময় লাগবে।

জুলিয়া: বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে গত বছর বিভিন্ন দেশে অনেকগুলো রোড-শো হয়েছে। এখনতো বিনিয়োগ আসতে শুরু হওয়ার কথা কিন্তু তেমন শোনা যাচ্ছেনা কেনো?

সিরাজুল: অনেক রোড-শো হয়েছে এটি মনে হয় বলা যাবে না। গত বছর আমাদের টার্গেট ছিল অন্তত ৭টি দেশে রোড-শো করবো। কিন্তু সব পারিনি। ইউএসএতে বিএসইসি’র উদ্যোগে ৪টি রোড-শো হয় তারপর বিডা আর বিএসইসি আমরা ইউকে'তে ২টি রোড-শো করেছি। এছাড়া দুবাইতে বিএসইসি একটি রোড-শো করেছিল। আমরা দুবাইতে ৩টা সেমিনার করেছি দুবাই এক্সপো টুয়েনটি-টু্য়েনটিতে। এর বাইরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। 

আমরা একটা ভিজিটে গিয়েছিলাম সৌদি আরব এবং গত ২৮-২৯ নভেম্বর আমরা ঢাকাতে ইন্টারন্যাশনাল সামিট করেছি। আপনি যদি বলেন রোড-শো বা প্রমোশনাল একটিভিটিজের মধ্যেই আসলে ২০২১ সীমাবদ্ধ। এছাড়া আমরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই ওয়েবিনার বা ভার্চ্যুয়াল এর সীমাবদ্ধতা হলো  আমরা হয়তো সম্ভাবনার কথা বলতে পারবো কিন্তু বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়া কিন্তু সম্ভব নয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রোডশোর সাথে সাথে যদি এর ফল চান সেটি মনে হয় ভুল হবে। রোড-শোতে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি আমরা যাতে তারা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসে। জুলাই ২০২১ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খুব লম্বা সময় নয়। আমার ধারনা  আমরা বিনিয়োগ পাবো রোড-শোর ফসল হিসেবে। 

ইনভেস্টমেন্ট সামিটের খুব ভালো ফলাফল আছে। এর শেষ দিনে ২৯ নভেম্বর সৌদি একটি কোম্পানি ১ হাজার ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের  প্রস্তাব দিয়েছে। এটা প্রসেসে  আছে। আমি মনে করি যে অন্যান্য  দেশ থেকে এ পর্যন্ত যতো বিনিয়োগ আসছে বা বছরভিত্তিক শুধু সৌদি আরব থেকেই তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ পাওয়া সম্ভব। 

জুলিয়া: বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ নিয়ে নতুন কোন তথ্য আছে কি? বছরের বাকি সময়ে সেদেশের সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্পর্ক কেমন  যাবে বলে মনে হচ্ছে আপনার?

সিরাজুল: এই মূহুর্তে দেশে যতো ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট আছে সেটি যদি আপনি দেশভিত্তিক ভাগ করেন তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ১ নম্বরে আছে। তবে গত কয়েক বছরে আমরা দেখছি মার্কিনীরা তালিকার উপরের দিকে নাই। ২, ৩ বা ৪ নম্বরে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের ট্রেড বাড়ছে এর একটা পজিটিভ ইমপ্যাক্ট আছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে।

জুলিয়া: প্রায় ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই পোশাক খাতে। বহুমুখীকরণ কথা অনেক শুনেছি আমরা কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এজন্য  বিনিয়োগ নীতিমালা এবং উৎসাহ দেয়ার কৌশলে ব্যর্থতা আছে কি? সরকারের দায়ও-তো আছে। আপনি কি মনে করেন? 

সিরাজুল: আমি মনে করি সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বৈচিত্রকরণের একটা প্রচেষ্টা আছে। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে গার্মেন্টসে আমাদের যে এক্সপার্টাইজ হয়ে গেছে এটি আমরা কিন্তু ইগনোর করতে পারবো না। এটা ইগনোর করা ঠিকও হবে না। কারণ প্রত্যেক ইন্ডাস্ট্রির কিছু স্পেশালাইজেশন থাকে সেখানে আরো কতো ইম্প্রুভ করা যায় সেটাও কিন্তু আপনাকে করতে হবে। দ্বিতীয় হলো গার্মেন্টসে ডাইভারসিফিকেশন উইদ ইন দিজ সেক্টর এর অনেক সুযোগ রয়েছে। তারা সেটি করছেন। 

আমাদের লেদারের একটি বড় সম্ভাবনা আছে। জুট, এগ্রো প্রসেসিং এগুলোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলোতে সরকারও ইনসেনটিভ দিচ্ছে। এগ্রো-প্রসেসিং ও এগ্রো প্রসেস এক্সপোর্টে অনেক ইনসেনটিভ দেয়া আছে যা অন্য কোনো সেক্টরে দেয়া হয়নি। ইভেন গার্মেন্টসেও না। আরেকটি বড় সম্ভাবনার জায়গা আইসিটি। আইটি সেক্টরে আমাদের ডেভেলপ করতেই হবে। আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে যদি আমরা সঠিকভাবে গ্রুম-আপ করতে পারি ট্রেইন  করতে পারি তবে এটি সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার খাত হতে পারে। আমরা প্রচুর ফরেন কারেন্সিও  আয় করতে পারবো। 

আপনি দেখেন ইকোনোমিকে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? কৃষির অবদান বিয়ন্ড ইমাজিনেশন। ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধ করে স্বাধীন হই আমরা তখন লোকসংখ্যা ছিলো সাড়ে ৭ কোটি। আমি তখন ক্লাস এইটের  ছাত্র। আশে পাশের লোকজনকে দেখেছি। তখন ফুল মিল অনেকেরই জুটতো না। এখন ১৭ কোটি মানুষ নিয়েও দেশ সে অবস্থায় নাই। এই কন্ট্রিবিউশন আসলে আমাদের কৃষির। 

ইন্টারনাল যে ডিমান্ড তা পূরণ করে এখন আমরা বিদেশে রপ্তানি করছি কৃষিপণ্য।  তাই গার্মেন্টসই নয় আমরা কিন্তু এগ্রিকালচারের উপর অনেক নির্ভরশীল। যদি আগের মতো খুব বেশি খাদ্যশস্য আমদানি করতে হতো তাহলে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট নিয়ে আমরা অনেক খারাপ অবস্থায় পরে যেতাম। আমরা অনেক ভালো অবস্থায় আছি, দুনিয়ার অনেক ইকোনোমির চেয়ে আমরা ভালো। আরেকটা বড় সম্ভাবনার জায়গা ডাইভারসিফিকেশন সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি, ২০২০ কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইয়ার অব দি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ঘোষণা করেছিলেন কারণ এর অনেক সম্ভাবনা আছে। আমরা কাজ করছি বিশেষ করে অটোপার্টস নিয়ে এর বড় সম্ভাবনা আছে বলেই। সারা দুনিয়ায় গার্মেন্টসের মার্কেটের  চেয়ে বড় অটো-পার্টস মার্কেট। 

তবে এখানে দুটো বড় চ্যালেঞ্জ আছে। একটা হলো স্টান্ডার্ডডাইজেশন । অটো-পার্টস শুধু তৈরি করলে হবে না স্ট্যান্ডার্ড হতে হবে। এর সঠিক মান ঠিক করার জন্য সার্টিফিকেশন লাগবে। ইন্টারন্যাশনাল যে সার্টিফিকেশন অথরিটিকে দিয়ে  আমরা যদি এটা করতে পারি তাহলে এটা হতে পারে একটা বড় ইন্ডাস্ট্রি। আমরা আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে অনেক রপ্তানিও করতে পারবো। 

জুলিয়া: বিদেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বাধা দূর করে শর্ত সাপেক্ষে বিনিয়োগের নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখানে সম্ভাবনা ও ঝুঁকি কি কি?

সিরাজুল: আমরা এতোদিন পর্যন্ত ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু আমাদের কিছু কিছু সক্ষমতা এমন পর্যায় গেছে যে এখন আমরা চেষ্টা করছি চিন্তা করছি যে আমরা বাইরে ইনভেস্ট করবো। এর জন্য নীতিমালা দরকার। 

বিডাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো নীতিমালা তৈরির সেটি আমরা সরকারের কাছে পাঠিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিধিমালা তৈরি করেছে সেই বিধিমালায় এখন বিদেশে বিনিয়োগ করা যাবে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হবে কেস টু কেস,  জেনেরালাইজড পলিসি নয়। বাংলাদেশী যারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে চান তাদেরকে সত্যিই যদি আপনি উৎসাহিত করতে চান তাহলে তাদেরকে জেনেরালাইজড পলিসি দিতে হবে। কেস টু কেস দিয়ে সকল সেক্টরের দাবী পূর্ণ করা যাবে কি-না আমি সন্দিহান।

বলা হয়েছে যে যারা এক্সপোর্ট করছে তারা তাদের আয়ের একটা অংশ বিদেশে ইনভেস্ট করতে পারবে। এখন প্রশ্ন হলো গার্মেন্টস এক্সপোর্টাররাই কি ইনভেস্ট করতে পারবে? কারণ তাদের ইনকাম আছে?  বিধিমালা যেহেতু হয়েছে, লিমিটেড স্কেলে হলেও আমাদের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবে। যদি আমরা বেশি উৎসাহ দিতে চাই সেখানে আরো কিছু করার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়। 

এগ্রিকালচার সেক্টরে যারা আমাদের এখানে ইনভেস্টর তারা আসলে কতো টাকা এই মূহুর্তে বিদেশে এক্সপোর্ট করছে। তাদের আয়ের একটা অংশ তারা বিদেশে  ইনভেস্ট করতে পারবেন সেটা কি যথেষ্ট কি-না তা চিন্তা করার সুযোগ আছে। এগ্রিকালচারে ইনভেস্ট  করার দুটি সুযোগ আমাদের এক হলো আমাদের যারা ইনভেস্টর তারা ওখানে ইনভেস্ট করবেন ওখান থেকে যে প্রোডাক্ট হবে ওখানকার লোকাল মার্কেট অথবা ওখান থেকে তারা এক্সপোর্ট করে ফরেন কারেন্সি আয় করবে। আবার এট দ্যা সেইম টাইম রেমিট্যান্স মার্কেট বা লেবার মার্কেটগুলো সংকুচিত হচ্ছে এসব জায়গায় যদি আমরা এগ্রিকালচারে ইনভেস্ট করতে পারি তাহলে আমাদের যারা অদক্ষ শ্রমিক তাদের কাজের বড় সুযোগ হতে পারে।

ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্টের কথা যখন আসে তখন একটি ঝুঁকির কথা সকলেই বলে তা হলো দেশের ফরেন কারেন্সি বিদেশে চলে যাচ্ছে কিনা। আমার ফরেন কারেন্সি রিজার্ভে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে কিনা। আমার কাছে মনে হয় এটি অমূলক ধারণা। কারণ যারা ইনভেস্ট করবেন তারা কিন্তু প্রোপার চ্যানেলে ইনভেস্ট করবেন। যতো টাকাই এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হোক বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা হিসাব থাকবে। সারা দুনিয়ায়ইতো এক দেশ থেকে আরেক দেশে ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে। আমেরিকানরা বাংলাদেশে ইনভেস্ট করছে আবার আমেরিকাতে কিন্তু অনেক ইনভেস্টমেন্ট আছে। আমেরিকা হলো সবচেয়ে বেশি এফডিআই টানে সারা বছরে। অথচ আমেরিকা আবার আউটয়ার ইনভেস্টমেন্টে বেশি। সো বাংলাদেশ আউটার ইনভেস্টমেন্ট করলে ফরেন কারেন্সি চলে যাবে এটা আমি মনে করি না। আমি মনে করি না টাকা পাচার হবে। এখন যেটা হচ্ছে এরতো কোনো হিসাব নাই। লন্ডারিং হচ্ছে কারণ সেটা কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়া যাচ্ছে। যখন সরকারি অনুমোদন নিয়ে যাবে তখন কিন্তু পাচার বলার কোনো সুযোগ নাই। এটা ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট। 

জুলিয়া: সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের ডুইং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশকে প্রথম ১০০ দেশের তালিকায় আনতে হবে তালিকার প্রথম ২৫ বা ৫০ এ না এলে কি আমরা প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব দাবী করতে পারি?

সিরাজুল: আমরা প্রচুর কাজ করেছিলাম ডুইং বিজনেস সুচকে উন্নতির  জন্য। প্যানডামিকের দুই বছরেও আমরা টানা কাজ করেছি। আমাদের অবস্থান খুবই খারাপ ২০২০ সালে ১৯০ এর মধ্যে ১৬৮। তখন আমরা টার্গেট নেই আমরা ডাবল ডিজিটে আসবো। আমরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এজেন্সির সাথে লাগাতার কাজ করেছি এবং আমাদের প্রচুর উন্নতি হয়েছে গত দু’বছরে। আনফরচুনেটলি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তাদের এই ইনডেক্স প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে তারা যাই করুক আমি জোর দিয়ে বলতে চাই বাংলাদেশে  রিফ্রম কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। কারণ শুধু বিদেশি বিনিয়োগ না দেশের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্যও কিছু কিছু রেগুলেটরি রিফ্রম, কিছু প্রসেস রিফ্রম, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কষ্ট অব ডুইং বিজনেস কমানো এগুলো আমাদের করে যেতেই হবে। বিডা কাজ করে যাচ্ছে। আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ইনডিকেটরগুলোর অনেক কিছুই আমাদের জন্য রিলেভেন্টও ছিল না। যেমন-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সার্ভে ছিল ঢাকা এবং চট্টগ্রামে কিন্তু আমার বিনিয়োগ তো সারাদেশে। এখন আমরা যেগুলো রিলিভেন্ট নয় সেগুলো বাদ দিয়ে দিবো। সে রিফ্রম হলে আমাদের বিনিয়োগকারীরা আমাদের ব্যবসায়ীরা আরো সহজে ব্যবসা করতে পারবেন।  বিনিয়োগকারিরা যাতে আরো কমফোর্ট ফিল করে সেটা আমরা নিশ্চিত করবো। আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেছি চার্ট করেছি এটা নিয়ে কাজ শুরু করবো শীঘ্রই।

জুলিয়া: প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগে উপদেষ্টার অফিস এবং আপনার অফিস বা আপনার কাজের সমন্বয় কি ঠিকমতো হচ্ছে?  

সিরাজুল: মাননীয় উপদেষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেন। তিনি যেহেতু প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টের উপর কাজ করেন এবং বিডাও তা প্রমোট করে, তাদেরকে সাপোর্ট দেয়। অবশ্যই তার সাথে আমাদের একটি ওয়ার্কিং রিলেশনশীপ আছে। আমরা যে সকল উদ্যোগ নেই তার কাছ থেকে আমরা পরামর্শ নেই, নির্দেশনা নেই। । প্রাইভেট সেক্টরে তার অভিজ্ঞতা আসলে বিরল। 

জুলিয়া: ব্যবসায়ীরাতো বটেই সরকারের অনেকেই বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে এখনো আমলাতান্ত্রকে দায়ী করে যাচ্ছেন। একজন সাবেক আমলা হিসেবে আপনি এটিকে কিভাবে দেখেন? 

সিরাজুল: আমি নিজেকে সাবেক আমলা না ধরি, আমি এখনও তো আমলা শ্রেণীতেই আছি যেহেতু আমি সরকারের হয়েই কাজ করি। আমলাদের ধারণা আমাদের দেশে খুব স্পষ্ট না। আমলা আভিধানিক অর্থে যিনি সরকারিভাবে বেতন ভাতা পান সবাই আমলা। যারা সমালোচনা করেন তারাও যে আমলা তারা তা বোঝেন না। আমলাতন্ত্র এটা একটা প্রসেস। এই প্রসেসের মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পাদন করা হয়। এই প্রসেসটি ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল থেকে। 

আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর গেছে। এই প্রসেসগুলোতে আসলে কিছু সমস্যা আছে আমি বলবোই কারণ ডুয়িং বিজনেস ইজি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তা দেখেছি। ১৪টা প্রসেস আছে একটি কার্য সম্পাদনের জন্য সেটিতে ইজিলি ৭টি প্রসেস বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। তার মানে ১৪টির জায়গায় ৭টিই যথেষ্ট। প্রসেস যতো বেশি হবে স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে সেবা দেয়ার যে দাবী আছে প্রাইভেট সেক্টর করে তা আমরা করতে পারবো না। তাই এখানে ইম্প্রুভমেন্ট করার প্রচুর সুযোগ আছে। প্রসেস কমাতে হবে । স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে তাই আমরা এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহারে। এতে খরচও কমে। 

জুলিয়া: গত দশ বার বছরে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ এগিয়েছে, বেশ কিছু মেগাপ্রকল্প শেষের পথে। এগুলো বিনিয়োগে সুনির্দিষ্ট কি প্রভাব রেখেছে?

সিরাজুল: মেগাপ্রকল্পগুলো শুরু হয়েছে, শেষ হয়নি কিন্তু। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট, গভীর সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পগুলো যখন শেষ হবে সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চমক সৃষ্টি করবে। এগুলি খুবই জরুরি ইনভেস্টমেন্টের জন্য। বিনিয়োগকারীরা যে কমফোর্ট চাচ্ছে তা তাদের দিতে হবে। তাহলে দেশের বিনিয়োগকারী এবং বিদেশীরাও উৎসাহী হবেন বিনিয়োগ করতে। 

জুলিয়া: ওয়ানস্টপ সার্ভিস নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? এর ফলে প্রত্যক্ষ প্রাপ্তি কি হলো? 

সিরাজুল: ওএসএস পোর্টাল কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে সেবার জন্য। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সকল সেবা নেয়া যাবে সহজেই। বিডা ছাড়াও ১৭টি সংস্থা ওএসএস এ জড়িত। এটি খুবই উপযোগী প্ল্যাটফর্ম এই ডিজিটাল যুগে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করার জন্য এরচেয়ে ভালো কোনো টেকনোলজি আছে বলে আমি মনে করি না। এটা একটা বড় মনিটরিং টুলও আমার জন্যে। কি পরিমাণ দরখাস্ত হয়েছে, কতো সময়ের মধ্যে কতোটি ডিসপোজাল হলো, সময় পার করে কতোটি ডিসপোজাল হয়েছে এসব মনিটরিং করতে খুব বড়  টুল এটি। তবে প্রাইভেট সেক্টরের কাছে আমার আবেদন ১৫টি সংস্থার ইন্টিগ্রেটেড আছে এখান তাদের সার্ভিস এখান থেকেই আইন অনুযায়ী নেয়ার কথা কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরে সেভাবে  উৎসাহ দেখছি না। উত্তর সিটি করপোরেশন, দক্ষিন সিটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন,  ইলেকট্রিসিটি,  সিডিএম সহ সকল সেবা নেয়া যাবে এই ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে। যে সংস্থাগুলি আছে তারাও তৈরি সেবা দেয়ার জন্য। আমার পোর্টাল টা যদি  প্রাইভেট সেক্টর ব্যবহার করে তাদের সার্ভিস না দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি তারা সময় মতো সার্ভিস না দেয় সেটিও মনিটরিং করতে পারি। আমরা যেহেতু প্রাইভেট সেক্টরকে প্রমোট করার একটি দায়িত্বে আছি যদি আমার ড্যাশ বোর্ডে দেখি কোন সংস্থায় ১০টি দরখাস্তের একটিও ডিসপোজাল হয়নি আমি কিন্তু সহজেই ওই সংস্থার সাথে কথা বলতে পারি। এজন্য প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে পার্টিকুলার এজেন্সীর সার্ভিসের জন্য ।

জুলিয়া: অনেকে বলেন এনবিআর এর বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়া বা বাধা হয়ে থাকার  ক্ষমতা আছে ।এই সংস্থার বিরুদ্ধে দেশি  বিদেশি ব্যবসায়ীদের অনেক অভিযোগ। আপনার অভিমত কি?

সিরাজুল: এনবিআরের মূল দায়িত্ব সরকারের জন্য আয় করা। তাদের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং সবসময় মাথায় থাকে  টার্গেট রিচ করতে হবে। রিচ করতে গিয়ে তাদেরকে কিছু পলিসি অনুসরণ করতেই হয়। এটিতে হয়তো প্রাইভেট সেক্টর সকল ক্ষেত্রে কমফোর্ট ফিল করে না, অভিযোগ করে। আমি মনে করি যে সেখানে কিন্তু অনেক উন্নতি হচ্ছে। এনবিআর তাদের অনেক সার্ভিস ইতিমধ্যে অনলাইনে নিয়ে গেছে। ভ্যাট অনলাইন হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তি ট্যাক্স অনলাইন হয়ে গেছে। সব যখন অনলাইন হয়ে যাবে তখন অভিযোগ কমে আসবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এনবিআর কর্মকর্তাদেরকে ডিসক্রিশনারি পাওয়ার দেয়া আছে কেস ডিসপোজালের জন্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিসক্রিশনারি পাওয়ার সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। 

জুলিয়া: আগামী বাজেটে বিনিয়োগ প্রণোদনা বা এজন্য নীতি সংস্কার নিয়ে আপনাদের কোন প্রস্তাব আছে কি?

সিরাজুল: আমরা আসলে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছি। মূল যে প্রস্তাব তা হলো কর্পোরেট কর কমানো। কারণ আমাদের যে প্রতিযোগী যারা একই মার্কেটে ব্যবসা করে তারা যখন আরো কম কর বেধে দিয়ে  বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় তখন আমরা কিন্তু পেরে উঠবো না। তাই কর্পোরেট ট্যাক্স আরো রেশনালাইজড করার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। 

জুলিয়া:  চীন, জাপান সহ প্রাচ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের  বিনিয়োগ সম্ভাবনা  এখন বেশ আলোচিত। এনিয়ে আপনার আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ শুনতে চাই। এদের বিনিয়োগ নিয়ে অপ্রকাশিত বা আগাম কোন তথ্য আছে কি?

সিরাজুল: জাপান, চীন এবং কোরিয়া ইস্ট এশিয়ার তিন বড় বিনিয়োগকারী দেশ। ওখান থেকে আমরা আরো বড় বিনিয়োগ আশা করি। ইতোমধ্যে জাপানের জন্য আলাদা স্পেশাল ইকোনোমিক জোন বিনিয়োগের জন্য প্রায় উপযোগী হয়ে গেছে। সেখানে আমরা বড় জাপানিজ বিনিয়োগ পাবো। বেজার বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কেও জাপানি বিনিয়োগ আসবে আলাদা করে। চীন ও কোরিয়াও আগ্রহী। আমরা  আশাবাদী মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি বিনিয়োগ নিয়ে। সেদেশের অনেক কোম্পানির ইনভেস্টমেন্ট আমরা পাবো আশা করছি।

জুলিয়া: আপনাকে ধন্যবাদ 

সিরাজুল: আপনাকে, একাত্তর পরিবার এবং একাত্তরের দর্শকদের অনেক ধন্যবাদ।


একাত্তর/এআর