আইএমএফ'ই এখন শ্রীলংকাকে বাঁচাতে পারে: ড. জাহিদ

নিজেদেরকে ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষণা দিলো শ্রীলঙ্কা। একটা দেশ কখন ঋণখেলাপি হয়? একটা দেশ ঋণখেলাপি হলে কি হয়? দেউলিয়া আর ঋণ খেলাপির মধ্যে পার্থক্য কি? শ্রীলংকাকে কি দেউলিয়া বলা যাবে? শ্রীলংকার এখন উত্তরণের পথ কি? একাত্তর অনলাইনকে এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ  ড. জাহিদ হোসেন। 

একাত্তর: এই ঘোষণার পর শ্রীলংকাকে কি দেউলিয়া বলা যাবে?

ড. জাহিদ হোসেন: ঋণখেলাপি হিসেবে ব্যাক্তিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয় আদালত থেকে। আপনি যদি একটা ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং সেই ঋণ সময়মত ফেরত না দিতে পারেন তাহলে আপনি ঋণখেলাপি হয়ে যাবেন। 

কোন ব্যাক্তি ঋণখেলাপি হলে তারপরের পদক্ষেপ হয়- আপনি কোর্টে গিয়ে ব্যাংরাপ্সির ডিক্লিয়ারেশন নিয়ে তারপর আপনার যা সম্পদ আছে তা দিয়ে বাংকের ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করবেন। 

কিন্তু একটা দেশের ক্ষেত্রে তো এমন কোন আন্তর্জাতিক আদালত নাই যেখানে কোন ঋণদাতা গিয়ে বলতে পারে অমুককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হোক। কাজেই আইনগত দিক থেকে আমরা সাধারণ ভাষায় হয়তো দেউলিয়া বলতে পারি কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেউলিয়া ঘোষণার কোন সিস্টেম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাই। 


একাত্তর: তাহলে এখন শ্রীলংকার করণীয় কি?

ড. জাহিদ হোসেন: এখন শ্রীলংকার যেটা করণীয় থাকবে সেটা হল যে, সোজা কথায় বলতে হবে আমি টাকা দিতে পারছি না। ফলে যে সময় লোনটা ডিউ হয়েছে, সেই লোনটা হয় রিশিডিউল করতে হবে অথবা আইএমফএর কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে অন্যদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে।


একাত্তর: এভাবে ঋণ শোধ করার কারণে কি শ্রীলংকাকে কোন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে?

ড. জাহিদ হোসেন: হ্যা। এভাবে ঋণ শোধ করার একটা পরিণতি আছে।

আপনি যখন নিজেকে ঋণখেলাপি হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেছেন, অর্থাৎ আপনি ঋণ শোধ করতে পারেননি, সেই ক্ষেত্রে আপনার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টাকা পেতে হলে এই ঘোষণার ইম্প্যাক্ট শেখানে থাকবে। এবং তার মূল প্রভাব পড়বে সুদের হারে। পরবর্তী ঋণ পেতে শ্রীলংকাকে মোটা সুদ গুণতে হবে। আর এর ফলে ব্যাংকের সিস্টেমের ওপর ইম্প্যাক্ট পড়তে পারে, বিদেশী বিনিয়োগের ওপর ইম্প্যাক্ট পড়তে পারে। এসব আগামীতে দেখার বিষয়। সবই নির্ভর করছে শ্রীলংকা বিষয়টা কীভাবে হ্যান্ডেল করছে। যদি একটা ইমাজেন্সি আএমএফ প্রোগ্রাম চলে আসে তাহলে হয়তো এটা দীর্ঘমেয়াদি ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারবেনা। কারণ তখন তারা সেখান থেকে টাকা নিয়ে ঋণ শোধ করে ফেলতে পারবে। 


একাত্তর: আইএমএফ কি শুধুই অর্থ দেবে নাকি কোন পলিসিগত সহায়তাও দেবে?

ড. জাহিদ হোসেন: যেইসব পলিসির কারণে শ্রীলংকার এই অবস্থা, আইএমএফ যদি কোন প্রোগ্রাম নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে তারা হয়তো একটা শক থেরাপি দেবে। আইএমএফ এর প্রেস্কিপশন অনুসরণ করলে হয়তো এই অবস্থা থেকে শ্রীলংকা উত্তরণ লাভ করতে পারবে। 


একাত্তর: নিজেদের এরকম ঋণখেলাপি হিসাবে ঘোষণা দেয়ার ঘটনা কি আগে ঘটেছে?

ড. জাহিদ হোসেন: এরকম ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। যেমন আর্জেন্টিন, ভেনুজিয়েলা, লেবানন, গ্রিসে। এসব ঘটনা একেবারে নতুন না। 

একাত্তর: তাহলে আপনি বলছেন এখন শ্রীলংকার অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের একমাত্র চাবিকাঠি কি হতে পারে উন্নোয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো?

ড. জাহিদ হোসেন: তা তো বটেই। বিশেষ করে আইএমএফ এর ভূমিকা এখানে মুখ্য। অনান্য উন্নোয়ন সংস্থা পাশে এলেও তারা বলবে তোমরা আইএমএফ এর কাছ যাও। কারণ লোণ ডিফল্ট পরবর্তী পরিস্থিতি হ্যান্ডেলের দায়িত্ব প্রধানত আইএমএফ এর। কাজেই বিশ্বব্যাংক এখন বলবে আমরা তোমাদের অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন ইনফ্রাস্টাকচার, শিক্ষাখাতে আমরা ঋণ দেবো তবে তোমাদের যেই বর্তমান ঋণ সমস্যা আছে এটা ঠিক করার জন্য তোমাদের একটা আইএমএফ প্রোগ্রাম লাগবে। এই প্রোগ্রাম যদি একবার চলে আসে তাহলে অন্য সবাই সহায়তা করতে দ্বিধা করবেনা।

কাজেই এখানে আমি আইএমএফ ছাড়া বাঁচার কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না।

একাত্তর: আইএমএফ ছাড়া কি উত্তরণের আর কোন উপায় নেই?

ড. জাহিদ হোসেন: অন্য একটা বিকল্প হতে পারে যদি চায়না বা ইন্ডীয়ার মত দেশ তাদের ক্যাশ সহায়তা দেয়। কিন্তু সেটার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।


একাত্তর/এআর