‘আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে উন্নয়ন বাস্তবমুখী হবে না’

ইত্তেফাকের বিজনেস এডিটর জামাল উদ্দিন বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা যদি ফিরে না আসে তাহলে যতো উন্নয়নের কথাই বলা হোক, সে উন্নয়ন বাস্তবমুখী হবে না।  

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) এই বাজেট নিয়ে একাত্তরের বিশেষ আয়োজনে যুক্ত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিজনেস এডিটর জামাল উদ্দিন, দৈনিক সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন এবং বিজনেস এন্ড ইকোনমিক এডিটরস গিল্ডের সহ-সমন্বয়ক সালাউদ্দিন বাবলু।

গত কয়েক বছর ধরেই পিকে হালদার কাণ্ডের মতো আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ হচ্ছে লাগাতার। তবুও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রতিবারই বাজেটে উপেক্ষিত থাকে। সে প্রসঙ্গেই এ কথা বলেন জামাল উদ্দিন। 

জামাল উদ্দিন বলেন, আর্থিক খাত শিল্পায়নে অর্থায়ন করবে, কর্মসংস্থান হবে, তখন মানুষের আয় বাড়বে, আয় বাড়লে সঞ্চয় বাড়বে, জিডিপি বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক একটি গতি-প্রকৃতি। কিন্তু বিগত সময়ে দেখা গেছে আমাদের আর্থিক খাত, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অনেক অভাব। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরানোর জন্য বরাবরই তাগিদ দিয়ে আসছেন। অথচ এই খাত এমনই বিশৃঙ্খল ছিলো যে এই খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি পর্যন্ত কয়েক বছর বন্ধ ছিলো। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনেকটা বেপরোয়া হয়ে গেছে, ঘটেছে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, অ্যারন টেক্স কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা। 

তিনি আরও বলেন, এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান হওয়ার পরও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর খাতে তাদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়গুলো কিন্তু এ খাতে সুশাসন যে নেই, সেই ইঙ্গিত বহন করে। 

এবং আমাদের এই বাজেটেও আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরানোর জন্য খুব বেশি কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

আর্থিক খাত থেকে সরকারের বড় অংকের ঋণ প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এছাড়াও এবারের বাজেট যেভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারকে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার মতো ঋণ করতে হবে। সরকারই যদি ব্যাংক থেকে এতো বড় অংকের ঋণ নিয়ে যায়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ অনেক কমে যাবে। 

একাত্তর/জো