বিদেশে থাকা বৈধ-অবৈধ সব সম্পদই ফেরাতে চায় সরকার

শুধু বিদেশে পাচার করা অর্থসম্পদই নয়, অনেকে বিদেশের মাটিতে বৈধভাবেই সম্পদ অর্জন করেছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সেসব সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতেই এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সুবিধা দেয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, রাজস্ব আদায়ের অনেক জায়গা রয়েছে তাই বাজেট বাস্তবায়নের অর্থের সমস্যা হবে না। সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন বলেও আশাবাদী অর্থমন্ত্রী। 

জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করার পরদিন শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তিনি। 

এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরে ফিরে আসে কেন বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে বাজেটে কের ছাড় দেয়া হলো? এই উদ্যোগ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে কিনা?

এসব প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশের মানুষের হক। আর এই হক ফিরিয়ে আনতে হবে। 

যারা দেশ থেকে টাকা বিদেশে নিয়ে সম্পদ গড়েছেন, তারা বাজেটে প্রস্তাবিত সুযোগ নিয়ে সেই টাকা ফিরিয়ে আনবেন বলেই তার বিশ্বাস।

বাজেটের বিশাল ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ সংগ্রহে অর্থমন্ত্রী নতুন একটি পথ খুঁজে বের করেছেন। বিদেশ থাকা সম্পদের ‘দায়মুক্তির’ দিয়ে তিনি তা দেশে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

১৫ থেকে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে বৈধ আয়ের তালিকায় যুক্ত করা যাবে, সেই অর্থ দেশেও আনা যাবে। আয়ের উৎস জানতে চাওয়া হবে না।

তিনি বলেন, যারা নিয়ে গেছেন বুঝতেই পারেননি, না বুঝেই নিয়ে গেছেন। সেজন্য হোয়াইট করতে সেগুলোকে আমাদের অর্থনীতির মূলধারায় আনার জন্যে এ কাজটি করা হবে।

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, যেটা পাচার হয়ে গেছে সেটা এদেশের মানুষের হক। যদি বাধা দিই তবে আসবে না। যদি না আসে আমাদের লাভটা কী? আমরা চাই, অন্য দেশ যা করে, আমরা তাই করতে যাচ্ছি। ১৭টা দেশ অ্যামনেস্টি দিয়ে টাকা ফেরত আনছে।

এ রকম ব্যবস্থা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, মালয়েশিয়া, নরওয়েতেও আছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, টাকার একটা ধর্ম আছে আছে। যেখানে রিটার্ন বেশি সেখানে চলে যায়। টাকা যারা পাচার করে সুটকেসে করে পাচার করে না। ডিজিটাল যুগ। বিভিন্ন ভাবে পাচার হয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন এমন প্রশ্নের জবাবে খানিকটা ঘুরিয়ে উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গরিব হওয়া কত কষ্টের আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি। তাই প্রত্যেকটি গরিব মানুষকে সামনে রেখে আমরা এই বাজেট দিয়েছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমি গত তিন অর্থ বছরে তিনটা বাজেট দিয়েছি। কোনো বাজেটই গরিব মারার বাজেট ছিল না। আমরা সবসময় বাজেট দেই দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে। 

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, চ্যালেঞ্জ কিন্তু একটা অপরচুনিটিও নিয়ে আসে। আমরা অপরচুনিটিতে বিশ্বাসী।

রাজস্ব আদায় নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই, কারণ এখনও এমন অনেক খাত রয়েছে যেখান রাজস্ব আদায় সম্ভব। করোনা পরবর্তী বিশ্ববাজার পরিস্থিতি মাথায় রেখেই আয় অনুযায়ী ব্যয়ের বাজেট করা হয়েছে বললেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

ঘাটতি বাজেট মোকাবিলায় সরকার ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিভাবে ঋণ নেবে? 

এ প্রশ্নের উত্তর অর্থমন্ত্রীর কাছে করা হলেও উত্তর দেন অর্থ-সচিব। তিনি বলেন, সরকার যে ঋণ নিচ্ছে তা মোট ঋণের মাত্র ছয় শতাংশ। ব্যাংকগুলোর জন্য এটা একটা সুবিধা। 

কারণ তারা সরকারকে তাদের কাছে পড়ে থাকা অলস অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। আর চিন্তার কোনো কারণ নেই। দেশে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ আছে।

আরও পড়ুন: পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর সুবিধা দেওয়া অনৈতিক: সিপিডি

এর সাথে যোগ করে অর্থমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে সরকার এ রিজার্ভকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। 

এছাড়া রেমিট্যান্স ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশ হয়েছে। আর বৈশ্বিক বিপর্যয় না হলে আমরা বিদ্যমান রিজার্ভকে ৪৮ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারতাম।

আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, এ অর্থবছরে অনেক চড়াই-উৎরাই আসবে। তবে, এবারের বাজেট বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হবে।


একাত্তর/এসজে