যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিতে প্রতিদিন লোকসান শতকোটি টাকা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেল খাতে। গেলো তিন জুন থেকেই ডিজেল ও অকটেন আমদানি খাতে প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

আর প্রতি লিটার ডিজেলে লোকসান প্রায় ৫০ টাকা। অকটেনের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩৫ টাকা। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংকট উত্তরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে। 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের স্রোতের মতো নিষেধাজ্ঞায় টালমাটাল জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার। 

এরমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদক সৌদি আরব তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় আরও একদফা জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। 

বিশ্ব বাজারের এমন অস্থির পরিস্থিতির কারণে গেলো নভেম্বরে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয় ডিজেলের দাম। পৃথিবীর  বেশিরভাগ দেশে এই দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে না।

তারপরও দফায় দফায় দাম বাড়ার কারণে দিনে ৬৩ থেকে ৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। গেলো চার মাসে লোকসান প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। 

কিন্তু জুনের তিন তারিখ থেকে বিশ্ব বাজারে দাম আরও বাড়ার কারণে এখন সেই লোকসান দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা। 

এভাবে চললে কয়েক মাসের মধ্যেই বিপিসির লোকসান গোনার সক্ষমতাও শূন্যে নেমে আসবে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ জানান, সামনে কঠিন সময় দেখছেন তারা। 

তিনি জানান, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটির বছরে লোকসান হবে ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশ্ব বাজারের দাম বেড়ে যাবার কারণেই এই পরিস্থিতি। 

বিপিসির তথ্য মতে, প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য ৭৫-৮০ ডলারের মধ্যে থাকলে লোকসান হয় না, লাভও হয় না।

প্রতি বছর প্রায় ৫৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে বিপিসি। এ পরিমাণ তেল আমদানি করতে সরকারের খরচ হয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।

আমদানি করা তেলের মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা সরকারি রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। বাকিটা পরিশোধিত তেল। 

আমদানি করা তেলের মধ্যে ৪০ লাখ টনই ডিজেল। এ ছাড়া অকটেন ও পেট্রোল দেশের গ্যাস খনি থেকে পাওয়া উপজাত পরিশোধন করে তৈরি করায় বিদেশ থেকে আনতে হয় না। 

আরও পড়ুন: পদ্মায় চলন্ত ফেরিতে হঠাৎ আগুন

দাম না বাড়িয়ে কিভাবে জ্বালানি তেলে লোকসান মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিষয়টি আমাদের বাস্তবতার বাইরে চলে গেলে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হয়। যা লিটার প্রতি ভারতের তুলনায় ৩০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।


একাত্তর/এসজে