এলপিজির দাম কমিশন ঠিক করলেও মানা হয় না

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ঠিক করে দেয়া এলপি গ্যাসের দামকে কোন তোয়াক্কাই করছে না উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তাদের ঠিক মূল্যেই এলপি সিলিন্ডার বিক্রি হয়।

অভিযোগ আছে, এলপি গ্যাস আমদানিকারক ও উৎপাদকদের যখন সুবিধা হয়েছে মেনে নিয়েছে যখনই মুনাফা কমে গেছে তখনই নিজেদের ইচ্ছায় চলছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে কমিশন গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে প্রতি মাসে গ্যাসের দাম ঠিক করে দিচ্ছে। কিন্তু সেই দাম মানছে না এলপি সিলিন্ডার উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। 

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কমিশন খুচরা বাজারের জন্য যে দাম ঠিক করে, কোম্পানিগুলো পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে তার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করে। 

আইন অনুযায়ী, এলপি সিলিন্ডার গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির দামই ঠিক করার কথা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। 

কিন্তু কমিশনকে এলপিজির দাম ঠিক করার দায়িত্ব দিতে হাইকোর্টে যেতে হয়েছিল ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (ক্যাব)। 

পরে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে গেলো বছরের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। 

কিন্তু কোম্পানিগুলো পাইকারি বিক্রেতাকেও গ্যাস দিচ্ছে কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। ফলে খুচরা বাজারে সিলিন্ডার প্রতি ১৬৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস।

কমিশনের ঠিক করা দামে কোম্পানিগুলো গ্যাস বিক্রির উদ্যোগ না নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, সংকট সমাধানে কাজ করছে বিইআরসি।

বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, ডলারের দর ছাড়াও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদকরা পরিবহন খরচ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁদা বাণিজ্য থেকে ফুটপাতকে মুক্ত করার পরামর্শ

এরিমধ্যে ১১টি কোম্পানি গণশুনানির জন্য আবেদন দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পরিবহন খরচ যে বেড়েছে তা প্রমাণের জন্য নথি চাওয়া হয়েছে। 

চলতি মাসে বিশ্ববাজারে এলপি গ্যাসের কাঁচামালের দাম কমলেও দেশে ডলারের দামের কারণে ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১৬ টাকা বাড়িয়েছে এক হাজার ২৩৫ টাকা দাম ঠিক করেছিল কমিশন। যা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার চারশো' টাকায়। 

একাত্তর/এসজে