চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি কমে তিন শতাংশে নামার পূর্বাভাস দিলো আইএমএফ। তবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এতো বেশি কমবে না বলে মনে করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনায়েদ কামাল আহমেদ।
তবে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তি ধরে রাখতে সরকারকে আরও বেশি মানবকেন্দ্রিক নীতি নেবার তাগিদ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।
করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। এতে একদিকে কমছে বিশ্ব বাণিজ্য, অন্যদিকে সব দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেড়েছে ভারসাম্যহীনতা ও অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতির প্রভাবে চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে অর্ধেকে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ এর বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে সেকথাই জানালেন বিশ্ব অর্থনীতির ওঝারা।
আইএমএফ এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে ওলিভিয়ার গৌরিংচাস বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ২০২১ সাল ছিলো ছয় শতাংশ, এবার তা হবে তিন দশমিক দুই আর আগামী বছরে তা আরও কমে দাড়াঁবে দুই দশমিকে।
এদিকে জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাবে এখন অস্থির সারা বিশ্বের পণ্য বাজার। সেখানে সুখবর নেই আইএমএফ বলছে ২০২২ সালে বিশ্বে গড় মূল্যস্ফীতি দাড়াঁবে প্রায় ৯ শতাংশে।
পিয়েরে ওলিভিয়ার বলেন, আমাদের হিসাব বলছে ২০২২ সালে সারা বিশ্বে জীবন যাত্রার খরচ বেড়ে দাড়াঁবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২৩ সালে এটি কিছুটা কমে ৬ এর ঘরে নামবে, তবে উন্নত বিশ্বে প্রবৃদ্ধি কমার চাপ পড়বে পুরো পৃথিবীতে।
সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি, তবে কঠিনতম সময় এখনো আসেনি- এমনটা জানিয়ে অলিভিয়ের গৌরিংচাস বলেন, ডলার দিন দিন শক্তিশালী হয়ে কম আয়ের দেশগুলোকে ভয়াবহ ভারসাম্যহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইএমএফের যখন এমনটি বলছে, তখন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান বাংলাদেশ এখনো স্বস্তিতে আছে। তবে তা ধরে রাখতে হলে সরকারকে আরও জনমুখী উদ্যাগ নিতে হবে।
এ সময় তিনি আরো জানান, ওয়াশিংটনের এবারের বৈঠকে শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ বেশ কটি খাতে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, ঋণের ভারে জর্জরিত দেশগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এ অবস্থায় তুলনামূলক গরিব দেশগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়া ও ঋণ আদায়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে শুরু হয় সাত দিনব্যাপী এ সভা। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এতে অংশ নিচ্ছেন। ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
এ ছাড়া যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা।