এক বছরে দেশের আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬২
ভাগ। বাংলাদেশ
ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটি বলছে, করোনার সময় ই-কমার্স আর স্বাস্থ্যখাতের অবৈধ লেনদেনের কারণে এমনটি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানায়, বিএফআইইউ।
নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার উপরে যে কোনো লেনদেনের তথ্য জানাতে হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। যা ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট নামে পরিচিতি।
এর বাইরে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়েও মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে জানাতে হয়।
গেলো অর্থবছরে দেশের ব্যাংকিংখাতে আট হাজার ৫৭১টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য জমা পড়েছে বিএফআইইউ’তে। এক বছরে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৩ হাজার ২৯১টি।
এর আগে, ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিলো ৫ হাজার ২৮০টি। এই বছরে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বেশি অভিযোগ ছিলো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। ১২টি প্রতিষ্ঠানের হিসেব পর্যালোচনা করে বিএফআইইউ বলছে, এ খাতের আসা অর্থের ৬৬ ভাগ পেয়েছে পণ্যের মূল মালিক। সাত ভাগ অর্থের কোনো হদিস নেই।
আরো বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে। ৫২ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওপর তদন্ত করে ৩৩টির সারাংশ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চিহ্ণিত সকল অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গেল বছর ৮৩৩টি তথ্য সরকারকে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ থেকে কি পরিমান অর্থ পাচার হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিতে পারলেও, টাকা পাচারের ধরন চিহ্ণিত হয়েছে।
বিএফআইইউর প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, সব সন্দেহজনক লেনদেন অপরাধ নয়। লেনদেন সন্দেহজনক হলে তদন্ত করি। এরপর যদি কোনেও অপরাধের তথ্য প্রমাণ মিলে, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই।
বিএফআইইউ পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়- এমন প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়। এই চুক্তির জন্য ৩ মাস সময় বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য,সাক্ষ্য প্রমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণের জন্য এই চুক্তি করতে যাচ্ছে বিএফআইইউ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য,কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া,মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, হংকং ও চীনের সঙ্গে হবে এ চুক্তি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা ও পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য প্রস্তাবিত রিসার্চ সেলে লোকবল পদায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ, বিএফআইইউ পরিচালক রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক কামাল হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/আরবিএস