৯ শতাংশ ঋণ সুদহার তুলে দিয়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডের ছয় মাসের গড় সুদহার (ওয়েটেড) বিবেচনা করে প্রতি মাসে একটি রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করে দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার নির্ধারণের এ করিডোর পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্ট’ (শর্ট টার্ম মুভিং এভারেজ)। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ তিন শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণ সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেছেন, আগামী মুদ্রানীতিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। আশা করছি আগামী এক জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। এনিয়ে ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
রোববার (২ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মেজবাউল হক বলেন, নতুন এ পদ্ধতি চালু হলে প্রতিমাসেই গ্রাহকের ঋণের সুদহারে পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি জানান, গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এ সভায় আগামী মুদ্রানীতি, সুদহার, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মূল্য হার, ডলারের বিনিময় হার, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা ও ক্যাশলেস বিষয়ে আলোচনা হয়।
জানা যায়, ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে অর্থ দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহারের ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে সম্প্রতি ভোক্তা ঋণে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ বাড়িয়ে সুদ নিতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখনও এ ইস্যুতে কোনো সার্কুলার জারি করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পাওয়া ঋণের শর্ত পালনে ৯ শতাংশের সুদহারের সীমা তুলে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সুদহারের যে গড় রেট বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করবে তা হবে বাজারভিত্তিক। প্রতি মাসেই তা ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে মেজবাউল হক বলেন, প্রতি মাসেই ছয় মাসের গড় সুদহার দেখে একটি রেফারেন্স রেট ঘোষণা করা হবে, যা হবে বাজারভিত্তিক। যদি দেখা যায় গড় সুদহার এক শতাংশ বা বা নিম্ন মুখী হয়েছে বা এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যা বাজারমূখী না, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার বুঝে সুদহার নির্ধারণ করে রেফারেন্স রেট জানিয়ে দেবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া রেফারেন্স রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ তিন শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুদ নিতে পারবে গ্রাহকের কাছ থেকে। অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেফারেন্স রেটে ঋণ দিতে পারবে।
‘র্স্মার্ট’ পদ্ধতিতে রেফারেন্স রেট ঘোষণা করলে বর্তমানে তা ৬ দশমিক ৯ শতাংশের মতো বলে জানিয়েছেন মেজাবাউল হক।
বাফেদার বিনিময় হারের বেশি ডলারের দর নয়
মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত মেনে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনাবেচার অভিন্ন দর নির্ধারণ করে দিচ্ছে বাংলাদেশ ফরেইন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন-বাফেদা এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে।
বিভিন্ন সময়ে দর পরিবর্তন করে বর্তমানে দেশে আসা রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার হবে সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ১০৫ টাকা পাবেন ব্যবসায়ীরা। যা রোববার (২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাফেদা।
আর আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে রেমিটেন্স ও রপ্তানির বিনিময় হারের গড় করে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ গড় হারের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা বেশি নিতে পারবে; অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।
ডজন খানেক ব্যাংক বাফেদার ঘোষিত এই দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিনিময় করছে। এমন অভিযোগের বিষয়ে রোববারের ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে মেজবাউল হক বলেন, ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে বাফেদার দরের চেয়ে কেউ বেশি দরে ডলার কেনা-বেচা করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদারকি করছে।
রপ্তানি মূল্য নজরদারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
রপ্তানি হওয়া পণ্যর মূল্য যথাযথ হচ্ছে কি না তা দেখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে মেজবাউল হক বলেন, আমরা যে ঝুঁকির জায়গাগুলো আছি তা নির্ধারণ করে এ বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণ করতে যাচ্ছি। ব্যাংকগুলো দেখবে, যে দরে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে তা সঠিক কি না। আবার রপ্তানি মূল্য যেন প্রত্যাবসনও হয়।
রপ্তানি মূল্যে কোনো অনিয়ম দেখতে পেয়েছে কি না বাংলাদেশ ব্যাংক এমন প্রশ্নের উত্তরে মেজবাউল হক বলেন, আমরা সেরকম ভাবছি না। ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছি মাত্র। ব্য্যাংকগুলো রপ্তানি ও আমদানি হওয়া পণ্যর সঠিক দরটি যাচাই করে দেখবে।
একাত্তর/এসি