স্বর্ণের ভরি লাখ ছাড়ালো, কমেছে গহনা বিক্রি

স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ প্রতি ভরি লাখ টাকা ছাড়ালো। খোদ জুয়েলারি সমিতি বলছে বিশ্ব বাজারের চেয়েও বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। 

আর ক্রেতারা বলছেন, চড়া দামের কারণে স্বর্ণ এখন আর শখের বিষয় থাকলো না। এখন নিতান্ত প্রয়োজনেই স্বর্ণ কিনেন তারা- তাও চাহিদার তুলনায় কম। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজার। ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

স্বর্ণ বরাবরই মূল্যবান ও বিলাসী ধাতু হিসেবে পরিচিত। বলা হয়, স্বর্ণ যেমন সৌন্দর্য বাড়ায় তেমনি এর মালিকানার পরিমাণ ব্যক্তি বা দেশের আর্থিক সক্ষমতারও পরিচিয় তুলে ধরে।

এই যেমন পরিবারের প্রথম সন্তান হবার সময়টিকে ধরে রাখতে রাজধানীর একটি জুয়েলারী দোকানে স্বর্ণের উপহার কিনতে এলেন শিহাব দম্পত্তি। 

এসেই দেখলেন মাত্র এক দিনের ব্যাবধানে ভরিতে স্বর্ণে দাম বাড়লো দেড় হাজার। তাই তাদের শখের জন্য ব্যয়টা সীমিত রাখতে হলো তার। কারণ, বাজেটে কুলাচ্ছে না। 

অন্য ক্রেতারাও বলছেন প্রতি নিয়ত স্বর্ণের দাম বাড়ছে, তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া গহনা কিনছেন না, যতটুকু কিনছেন তাও নিতান্ত প্রয়োজনে।

বিক্রেতারা বলছেন প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম ৮ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে ভরি ৯৯ হাজার ১৪৫ টাকা। 

ভ্যাট পাঁচ শতাংশ এবং মজুরি মিলিয়ে প্রায় এক লাখ দশ হাজার টাকা। তাই মধ্যবিত্ত ক্রেতা এখন স্বর্ণের বাজারে নেই। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এনামুল হক খাঁন বলেন, দাম বাড়ার কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রার সাথে টাকার অবমুল্যায়ন এবং স্বর্ণ আমদানির অসস্পূর্ণ নীতিমালা।

ক্রেতা-বিক্রেতা দুপক্ষই চাইছে একটি স্থিতিশীল বাজার। তবে বাজুস বলছে, বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানি না হলেও, ধাতুটিকে সব সময় মূল্যবান রাখতেই বিশ্ববাজারে দাম সমন্বয় হয়।

এ সময় স্বর্ণের বাজারে সরবরাহ বাড়াতে, এলসির পরিবর্তে স্বল্প সময়ে নগদ টাকায় স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন।


একাত্তর/আরবিএস