কৃষক ও ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় এই দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। অথচ গত তিন এপ্রিল এক সভায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন, সারের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, দাম বাড়বে না।
সোমবার (১০ এপ্রিল) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সারের দাম বৃদ্ধির এই তথ্য জানানো হয়।
সোমবার থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে সারের আমদানি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষে সারের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো’।
এর আগে সারের মূল্য পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কথা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
দাম বাড়ায় এখন থেকে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপির দাম ২২ টাকা থেকে ২৭ টাকা, ডিএপি ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ২১ টাকা, এমওপি সারের দাম ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে ৫ টাকা বেড়ে ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপির দাম ২৫ টাকা, ডিএপির দাম ১৯ টাকা এবং প্রতি কেজি এমওপির দাম ১৮ টাকা হয়েছে। যা আগে ছিল ইউরিয়া ও টিএসপি ২০ টাকা, ডিএপি ১৪ টাকা এবং এমওপি ১৩ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিকেজি ইউরিয়া সারের বর্তমান দাম ৪৮ টাকা, ডিএপি ৭০ টাকা, টিএসপি ৫০ টাকা আর এমওপি ৬০ টাকা। এর ফলে পাঁচ টাকা দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে প্রতিকেজি ইউরিয়াতে ২১ টাকা, ডিএপিতে ৪৯ টাকা, টিএসপিতে ২৩ টাকা এবং এমওপিতে ৪০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
মন্ত্রণালয়টি আরও জানায়, গত তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম প্রায় তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশে সারে প্রদত্ত সরকারের ভর্তুকিও বেড়েছে প্রায় চার গুণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ভর্তুকিতে লেগেছিল সাত হাজার ৪২০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে লেগেছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
সারে ২০০৮-০৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এখন পর্যন্ত সর্বমোট এক লাখ ১৯ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে বলেও জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।
তিন এপ্রিলের বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, ২৩-২৪ অর্থবছরে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপিসহ বিভিন্ন ধরনের সারের চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ মেট্রিক টন।যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশে সার নিয়ে কোন সঙ্কট সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেছিলেন, সারের ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করবে সরকার। এ বছরও আমাদের সারের দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। সারের দাম বাড়ানো হবে না।
আরও পড়ুন: মডেল নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুত বাংলাদেশ: মোমেন
গত চার বছরে প্রধানমন্ত্রী সারের দাম এক টাকাও বাড়াননি উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, সারের দাম বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বারবার বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী অনড়, কিছুতেই তিনি সারের দাম বাড়াবেন না। এবছর সার আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই। স্থানীয় উৎপাদনেই সারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে এজন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ওই বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/এসি