অর্থনীতির চাপ সামলাতে সংস্কারের তাগিদ সিপিডির

চড়া মূল্যস্ফীতি, সরকারের আয়ের বিপরীতে প্রশ্নাতীত খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান, সবমিলিয়ে দেশের অর্থনীতি যে কোনো সময়ে তুলনায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

অর্থনীতির এই দুর্দশা যতোটা না বহির্বিশ্বের কারণে, তার চেয়ে বেশি নীতি দুর্বল  বলে মনে করছে সংস্থাটি। তাই আসছে অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ সামাল দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি।

শনিবার সংস্থাটির ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২২-২৩ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন বক্তারা।

সংস্থাটির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা, পরিবহনের মতো খাদ্য বহির্ভূত খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাবারের খরচ কমিয়ে দিয়েছেন নাগরিকরা। 

সিপিডির গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে একটি পরিবার আয়ের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৪৩ টাকা খাবারে ব্যয় করতো।  ২০২২ সালে আয় বাড়ার পরেও খাবারে খরচ করছে ১০০ টাকায়  ৪০ টাকারও কম। আর এই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও হয়েছে লাগামছাড়া। 

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ঋণের একই সুদহার, ব্যাংক থেকে লাগাতার ঋণ নেয়া, আর বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার ফলে যে মূল্যস্ফীতি এখন সামষ্টিক অর্থনীতিও তার চাপে পড়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটা সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক, ভালো নির্বাচনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ভিসার বিষয়টা এনেছে। একজন নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের জন্য খুবই অপমানজনক। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই তো এটা (সুষ্ঠু নির্বাচন) করা উচিত। একটা গণতান্ত্রিক সমাজে তো এটা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবেই থাকা উচিত। এটাকে একটা শর্ত দিয়ে একটা ভালো নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া, এটা জাতি এবং নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। সেটার অনুধাবনটা আমাদের সবার এবং সব রাজনৈতিক পক্ষের থাকা উচিত বলে আশা করি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আদায়ে এ বছর ৭৫ হাজার কোটি টাকার যে ঘাটতি তা আগামী অর্থবছরেও চলমান থাকবে। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার বন্ধ করতে না পারলে ডলারের সঙ্কট কাটবে না। আবার প্রবাসী আয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন বাড়লো সেটিও খতিয়ে দেখার দরকার। 


একাত্তর/এসি