অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মার্কিন ডলার বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা হয়ে আছে। বিশ্বব্যপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় সব লেনদেনই হয় মার্কিন ডলারে।
এবার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা আর্থিক ব্যবস্থা ‘ডলারমুক্ত’ করার আওয়াজ উঠেছে। ডলারের বিকল্প মুদ্রা চালুর চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশ।
বিশ্বে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বা বিনিময় মাধ্যম বলে ঘোষিত কিছু নেই। কিন্তু মার্কিন ডলার তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে অলিখিত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।
তবে এবার ডলারের আধিপত্য ভাঙার আওয়াজ উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ওলটপালট করে দিয়েছে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে।
ডলারের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার বিপদ টের পেয়ে শুধু রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভারত, সৌদি আরবই নয়, পশ্চিমা দেশগুলোও এখন ডলারের বিকল্প খুঁজছে।
ভারত এবং মালয়েশিয়া সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, তারা কিছু নির্দিষ্ট বাণিজ্যের লেনদেনের জন্য ভারতীয় রুপি ব্যবহার শুরু করেছে। এনিয়ে ভাবছে বাংলাদেশও।
সৌদি আরব বলেছে, তারা মার্কিন ডলারের পরিবর্তে অন্য মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এরিমধ্যে চীনা ইউহান ও রাশিয়ার রুবেলকে সুবজ সংকেত দিয়েছেন তারা।
পৃথিবীর চলমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি এখন চীন। বেইজিংও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চায় নতুন ব্যবস্থা।
চীন নিজের মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ডলারের বিকল্প চাইছে আরও কিছু উদীয়মান শক্তি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো।
মুদ্রা বিশেষজ্ঞ স্টিভেন জেনের মনে করেন, বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা থেকে ডলার হটানোর চেষ্টা খুব তাড়াতাড়ি সফল হবে না।
তবে তাঁর মতে, ইউয়ান ও ইউরো ডলারের রাজত্বে ভাগ বসাবে এবং রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তিন মেরু ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটবে।
চীনা মুদ্রায় কিছু আন্তর্জাতিক লেনদেন হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো এর পরিমাণ এখনো খুব কম। তাই রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের আধিপত্য আপাতত থেকেই যাবে।
আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন
তবে ডি-ডলারাইজেশন ক্যাম্পেইন আন্দোলনে সফলতার জন্য ডলারের একটি পরিষ্কার বিকল্প থাকতে হবে বলছেন বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, যদি ডলারের বিকল্প হয় রুবল অথবা ইউয়ান অথবা রুপি তাহলে কালের বিবর্তনে ডলারের মতো এই মুদ্রাগুলোও বিশ্বকে শোষণ করতে থাকবে।
অন্য বিকল্প হতে পারে- যার যার মুদ্রা সে সে ব্যবহার করবে, কোনো আন্তর্জাতিক মুদ্রা থাকবে না; দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন হবে।
ক্রিপ্টোকারেন্সিও একটি বিকল্প হতে পারে যেখানে কোনো দেশের একক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে আগস্টের ব্রিকস সম্মেলনে কি ধরনের ঘোষণা আসে তার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।
একাত্তর/আরবিএস