সুদহার বৃদ্ধিতে খেলাপি ঋণ বাড়ার আশঙ্কা

সুদহার বৃদ্ধির কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, চলমান ডলার ও জ্বালানির সঙ্কটের কারণে আইএমএফের চাপে মুদ্রানীতির পরিবর্তন হলেও অর্থনীতি জন্য তা টেকসই হবে না। তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুদ হার কমিয়ে টাকাকে সস্তা করলে বেনামি ঋণের সুযোগ বেড়ে যাবে। 

চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাংক খাতে ঋণের সুদ হার বৃদ্ধি। যেখানে সরকারের ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদের সঙ্গে সবোর্চ্চ তিন শতাংশ যোগ করে এ সুদ বেঁধে দিচ্ছে ব্যাংক খাত, বর্তমানে যা ১০ দশমিক ১০ শতাংশের মধ্যে। 

আবার চলমান বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের সঙ্কটকে মাথায় রেখে সরবরাহ বাড়াতে ডলারের দামকে বাজারমুখী করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে চলতি মুদ্রানীতিতে। 

রোববার আইসিএবি ও ইআরএফে আয়োজিত মুদ্রানীতি এবং তার প্রভাব নিয়ে আলোচনায় ব্যবসায়ীরা জানান, রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অর্থনীতির সঙ্কট দূর করার বদলে আরও অস্থিতিশীল করবে। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, কিছু লোক বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসা করে রাতারাতি বিলিয়নার হয়ে গেছে। এসব ধনীদের হাতে দেশ ছেড়ে দিয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণাতে লাভ হবে না। 

বিভিন্ন সঙ্কটের মধ্যেই মুদ্রনীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে আইসিএবি সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নতুন এই মুদ্রানীতিতে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হল অর্থ সরবরাহকে কঠোর করে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

সুদ হারের নতুন নীতির কারণ খেলাপি ঋণ বাড়ার শঙ্কা জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এর ফলে বেনামি ঋণ বাড়লেও দায় নেবে না ব্যবসায়ী সমাজ। বেনামি ঋণের বোঝা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। 

আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন শুরু ১১ জুলাই

তবে নয়া সুদ হারের কারণে খেলাপি ঋণ যে বাড়বেই, তা মানতে নারাজ বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, টাকাকে সস্তা রাখায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মুদ্রানীতির সুফল পেতে মাঠ পর্যায়ে আরও তদারকি চেয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, নির্বাচনী বছরে অর্থনৈতিক সঙ্কট কমাতে প্রবৃদ্ধি নয় বরং মনোযোগ দিতে হবে সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির দিকে। একই সঙ্গে রাজস্ব নীতির সঙ্গেও সমন্বয় লাগবে।


একাত্তর/এসি