রাশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আলু রপ্তানি হতো আগেই। সব মিলিয়ে ১১ দেশে আলু রপ্তানি করা হয়। আর এবার প্রক্রিয়াজাত করে আলু রপ্তানি করবে বাংলাদেশেরই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ভ্যালেনসিয়া নামে নতুন জাতের এক আলু প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হবে জাপানে। তারা বলেন, সাধারণ আলু পাঠানোর চেয়ে তা কেটে টুকরো করে রান্নার উপযোগী করে পাঠানোয় এর মূল্য অনেক বেশি।
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে এক কোটি টন আলু উৎপাদন হয়। যদিও চাহিদা ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন। ফ্রেঞ্চফ্রাইসহ বিশ্ববাজারে আলুর চাহিদা আছে। দেশে বর্তমানে যেসব জাতের আলু উৎপাদিত হচ্ছে, তার চাহিদা বিদেশে অনেক কম।
সেজন্য রপ্তানিযোগ্য ও শিল্পে ব্যবহার উপযোগী আলুর জাত সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে বিএডিসি'র মাধ্যমে বিদেশ থেকে অনেকগুলো উন্নত জাত আনা হয়েছে, সেগুলো কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলমান আছে।
দেশের প্রচলিত জাতের আলুতে জলীয় অংশ বেশি থাকায় প্রচুর উৎপাদন হলেও রপ্তানি হয় কম। তাইতো নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা ভ্যালেন্সিয়া জাতটি দেশে এসিআই কোম্পানি প্রচলন করেছে। যা ২০২০ সালে বীজ নিবন্ধন পায় দেশে চাষাবাদের।
এসিআই ১০ নামের এই আলুতে ড্রাই মেটার ২১ শতাংশ থাকায় প্রক্রিয়াজাত করে এবার জাপানে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান।
এসিআই এগ্রিবিজনেস জানাচ্ছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশের ভ্যালেন্সিয়া জাতের আলুর নমুনা জাপানের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর গুণগত মান বেশ ভাল ও সুস্বাদু বলে জানিয়েছে জাপানি আমদানিকারক কোম্পানিটি।
সরাসরি আলু পাঠানোর চেয়ে রান্নার উপযোগী প্রক্রিয়াজাত করে আলু রফতানিতে মুল্য পাওয়া যায় কয়েকগুণ বেশি বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ড. এফ এইচ আনসারী।
চলতি বছরে উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলায় ভ্যালেন্সিয়া জাতের আলু চাষাবাদ শুরু হয়েছে। শুধু আলু রপ্তানি নয়, বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠার বাংলাদেশে যৌথভাবে আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
একাত্তর/এআর