এ বছর দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টন ইলিশ রপ্তারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইলিশের মৌসুম সত্বেও বাজারে মাছটির দাম চড়া। তারপরেও ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কী পরিমাণ রপ্তানি করা হবে, এতে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশ আমরা নিয়মিত রপ্তানি করি না। শুধু দুর্গাপূজায় যেসব বাঙালি আমাদের মতো ইলিশ খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই উৎসবের সময় শুভেচ্ছাস্বরূপ ইলিশ দেয়া হয়।’
দুর্গাপূজা সামনে রেখে এবারও পাঁচ হাজার টন ইলিশের চাহিদার কথা জানিয়েছে ভারতের কলকাতার ব্যবসায়ীরা। গত ১ সেপ্টেম্বর কলকাতা ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে আবেদন করে। গত ৪ সেপ্টেম্বর তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এসেছে।
গত বছর পূজার সময় দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। আগের বছরগুলোতেও একই পরিস্থিতি হয়েছিলো।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমের সময়, আমরা আম পাঠাই। সারা বছর কিন্তু আমরা এক ছটাকও ইলিশ রপ্তানি করিনি। এই ১৫ দিন কিংবা এক মাসের জন্য টোকেনস্বরূপ কিছু ইলিশ রপ্তানি করবো।’
দেশে বছরে ছয় লাখ টন ইলিশ উৎপাদন হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই হিসাবে প্রতিদিন যদি আমরা ধরি, তাহলে গড়ে দুই হাজার টন ইলিশ ধরা হয়। বড়ো জোর পাঁচ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি করবো। তাতে সারা বছরের দুই দিনের উৎপাদন আমরা তাদের দেব এই পূজার সময়।
তিনি বলেন, পাঁচ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি আমাদের লক্ষ্য। গত বছর এই সমপরিমাণ দিয়েছি। আগের বছরও পাঁচ হাজার কিংবা তিন হাজার দিয়েছিলাম। তিন হাজার দিয়ে যদি পারি, তাহলে এর বেশি আমরা দেব না।
এতে বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কবে থেকে এটা কার্যকর হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা পূজার সময়ে প্রতি বছর দেই। এবারও দেব।
তিনি বলেন, আবেদনের ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে হয়ত ৫০ টন করে দেব। এ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তাতে তিন হাজার বা সাড়ে তিন হাজার টন ইলিশ পাঠানো হতে পারে।