কসমেটিকস ও খেলনার দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ

ডলারের দাম বৃদ্ধির সুযোগে কসমেটিকস থেকে শুরু করে খেলনা ও বেবি আইটেম, স্পোর্টস ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। চকবাজারের বারোয়ারি পণ্যের বাজারে চলছে এমনই নৈরাজ্য।

আমদানিকারকদের দাবি, এলসি জটিলতার সাথে কাস্টমসের হয়রানিও বেড়েছে। যা বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

পুরান ঢাকার চকবাজার, চারশ’ বছরের পুরনো এই ব্যবসা কেন্দ্রটি এখনও দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। ‘সুই-সুতা’ থেকে শুরু করে সাজসজ্জা কিংবা গৃহসজ্জা- হাজারো পণ্য সারাদেশের যায় এখান থেকেই।

কসমেটিক, বেবি আইটেমস, খেলনা, ইলেকট্রিক পণ্য বা স্পোর্টস আইটেমস কী নেই এখানে। আমদানিকৃত পণ্য মজুতকারী আর পাইকারদের হাত বদলে পৌঁছে যায় সারাদেশের শহর ও গ্রাম-গঞ্জে।

এলসি জটিলতায় এই বাজারেও এখন আমদানি সংকটের প্রভাব পড়েছে।

চকবাজারের ব্যবসায়ীরা বললেন, এক বছর আগে ৮৫-৮৬ টাকা ডলার রেটে পণ্য আমদানি করে দেশের বাজারে তা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা। তবে, এই হিসেব ঠিক থাকলে এখন ডলারের অফিসিয়াল রেট ১১৩ থেকে ১১৪ টাকায় আমদানি পণ্য বিক্রি হওয়ার কথা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, তাদের কেনা বেশি পড়ায় বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এলসি জটিলতার সাথে সাথে বন্দরে পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানিও অনেক বেড়েছে বলে জানালেন চকের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে হরতাল-অবরোধে গত মাসের ২৮ তারিখ থেকে ক্রেতার খরা যাচ্ছে চকবাজারে। বিক্রি নেমেছে আরও তলানিতে।

বিক্রেতারা বলছেন, অবরোধে কিছু মানুষ ঢাকার বাইরে থেকে আসতে পারছে না। আগে যাদের দিনে গড়ে ৪০-৫০ হাজার টাকা বিক্রি হতো- এখন তারা গড়ে চার-পাঁচ হাজারেরও কম বিক্রি করতে পারছেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসেবে পুরাণ ঢাকার সব পাইকারি বাজারে প্রতিদিনের মোট বেচাকেনা হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চকবাজারেই লেনদেন হয় এককভাবে সবচেয়ে বেশি।